পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে সারা দেশ। কুয়াশার চাদর আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। তবে শীতের এই তীব্রতা কমার কোনো সুখবর নেই, বরং আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসতে পারে।
বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির অবনতি
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এদিন সকাল ৬টার দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের কামড় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বৃহস্পতিবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রার এই পতন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনি ও রোববার হতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
শুধু বৃহস্পতিবারই নয়, সপ্তাহের শেষের দিকে শীতের দাপট আরও বাড়বে। গবেষকদের মতে, আগামী শনিবার ও রোববার দেশে ‘তীব্র শৈত্যপ্রবাহ’ বা সিভিয়ার কোল্ড ওয়েভ বয়ে যেতে পারে।
এই দুই দিন রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। সাধারণত তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে সেটিকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। এই সময় ঘন কুয়াশা এবং সূর্যের দেখা না পাওয়ার কারণে দিনের বেলাতেও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
বুধবারের তাপমাত্রার চিত্র
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার (সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী) দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে অন্তত পাঁচটি বিভাগের ওপর দিয়েই মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।
বুধবারের রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল নিম্নরূপ:
- রাজশাহী: বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী জেলায়, যা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ: এই দুই জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- যশোর: তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- পঞ্চগড়: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- ঢাকা: রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জনজীবনে শীতের প্রভাব ও সতর্কতা
তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকায় দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের কাপড়েও মানছে না ঠান্ডা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
১. প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বা গভীর রাতে ঘরের বাইরে না যাওয়া।
২. শিশু ও বয়স্কদের গরম কাপড় পরিধান নিশ্চিত করা।
৩. ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে কান ও গলা ঢেকে রাখা।
৪. কুয়াশায় মহাসড়কে চলাচলের সময় যানবাহনে ফগ লাইট ব্যবহার করা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের গতিবেগ এবং কুয়াশার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। তাই আগামী কয়েকদিন সবাইকে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শীতের এই তীব্রতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার মতিগতি দেখে আরও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।








