দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে আগামী শিক্ষাবর্ষে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে ছুটির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে এবং সিলেবাস সঠিক সময়ে শেষ করতে এবার মোট ১২ দিন ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো পবিত্র রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখা এবং শবে মেরাজ, আশুরাসহ বেশ কিছু ধর্মীয় দিবসের ছুটি বাতিল করা। চলুন জেনে নিই ২০২৬ সালের ছুটির তালিকার বিস্তারিত পরিবর্তনগুলো।
রোজায় স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাসেও পুরোদমে ক্লাস চলবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে।
এর অর্থ হলো, রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২১ দিন (২১ রমজান পর্যন্ত) শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যেতে হবে। যেখানে অন্যান্য বছর রমজান মাস উপলক্ষে পুরো মাসই স্কুল বন্ধ থাকত বা সীমিত পরিসরে খোলা থাকত, সেখানে এবার বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তুলনামূলক চিত্র (২০২৫ বনাম ২০২৬)
- ২০২৫ সাল: গত বছর রোজা, দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে মোট ২৮ দিন ছুটি ছিল।
- ২০২৬ সাল: আগামী বছর এই একই উৎসব ও দিবসগুলোর জন্য ছুটি কমিয়ে মাত্র ১৯ দিন করা হয়েছে।
বাতিল হলো যেসব দিবসের ছুটি
নতুন এই তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে যেসব দিবসে আলাদা কোনো ছুটি থাকছে না, সেগুলো হলো:
- পবিত্র শবে মেরাজ
- পবিত্র আশুরা
- শুভ জন্মাষ্টমী
- সরস্বতী পূজা
- বুদ্ধ পূর্ণিমা
- মধু পূর্ণিমা
- শুভ মহালয়া
- একুশে ফেব্রুয়ারি
- মে দিবস
(নোট: এসব দিবস সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ার কারণে আলাদা ছুটি রাখা হয়নি )
কমেছে গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অবকাশ
শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, মৌসুমী ছুটির পরিমাণও কমিয়ে এনেছে মন্ত্রণালয়।
- গ্রীষ্মকালীন ছুটি: আগে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে ১৫ দিন ছুটি থাকত। এবার তা কমিয়ে ১২ দিন করা হয়েছে।
- শীতকালীন ছুটি: বছরের শেষের দিকের শীতকালীন অবকাশও ১ দিন কমানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুরো বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১২ দিনের ছুটি কমে গেছে।
নতুন করে যুক্ত হওয়া ছুটি
ছুটি কমানোর ভিড়ে কিছু নতুন দিবসে ছুটি যুক্তও করা হয়েছে, যা আগে সাধারণত ছিল না বা থাকলেও নির্দিষ্ট করা ছিল না। এবার যেসব দিবসে ১ দিন করে ছুটি রাখা হয়েছে:
- পবিত্র শবে বরাত
- বৈসাবি উৎসব
- ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
কেন এই পরিবর্তন?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ এবং নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করতেই কর্মদিবসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখার মাধ্যমে বছরের শুরুর দিকের সিলেবাস এগিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।








