পুরান ঢাকার লালবাগের ইসলামবাগ এলাকায় একটি প্লাস্টিকের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আগুনের খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দ্রুত ইউনিটগুলো পাঠানো হয়। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় আরও ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামবাগের সরু গলি এবং আশেপাশে অসংখ্য প্লাস্টিক ও কেমিক্যালের গোডাউন থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন যেন আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
আগুনের সূত্রপাত ও ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তারা ইসলামবাগের এই প্লাস্টিক গোডাউনে আগুন লাগার খবর পান। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে আরও দুটি ইউনিট তাদের সাথে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে আগুনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কর্মীরা কাজ করছেন এবং অতিরিক্ত সাহায্য হিসেবে আরও চারটি ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
প্লাস্টিক গোডাউনে আগুনের ভয়াবহতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
পুরান ঢাকার ইসলামবাগ এলাকাটি মূলত প্লাস্টিক কারখানার জন্য পরিচিত। প্লাস্টিক অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় আগুন লাগার পর তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে গোডাউনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে যা আশেপাশের অনেকটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক পুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের এবং স্থানীয়দের নিশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ফায়ার সার্ভিসকে সাহায্য করার জন্য কাজ করছেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে প্লাস্টিকের স্তূপ থাকায় আগুনের তাপ অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রাথমিক তথ্য
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা তদন্তের পর জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর তাদের কাছে আসেনি। তবে আগুনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্লাস্টিক গোডাউনটির মালিক বা কর্মচারীরা আগুন লাগার সময় ভেতরে ছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকি ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
এই পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক ও কেমিক্যালের গোডাউনে বারবার আগুন লাগার ঘটনা স্থানীয়দের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামবাগের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ঢোকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আজকের এই আগুনের ঘটনায়ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আশপাশের ভবনগুলোতে প্লাস্টিকের কাঁচামাল থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে এ ধরনের গোডাউনগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ছোট আগুনও দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
পুরান ঢাকার ইসলামবাগে প্লাস্টিক গোডাউনের এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। মোট ১০টি ইউনিট এই মিশনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে যা আগুনের ভয়াবহতাকেই ইঙ্গিত করছে। প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং বিষয় কারণ প্লাস্টিক দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আগুন নেভানোর পাশাপাশি আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। পুরান ঢাকার এই নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড রোধে স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।








