ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘জুলাই ঐক্য’। এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিটি মূলত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ (Extradition) এবং দেশের রাজনীতি, গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান ভারতীয় ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিবাদের মূল কারণ: খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভারতীয় আগ্রাসন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবং জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক এবি জুবায়ের এই ঘোষণার বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্রমাগত আগ্রাসন। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার যেসব অভিযুক্ত ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের প্রধান দাবি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই ঐক্য ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল করবে এবং সেখানে প্রতিবাদ জানাবে।”
ভারতীয় মদদপুষ্ট রাজনৈতিক দল ও মিডিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এবি জুবায়ের তার বক্তব্যে দেশের ভেতরে ভারতীয় প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারতীয় মদদপুষ্ট মিডিয়া এবং কিছু রাজনৈতিক দল যেন বাংলাদেশে কোনো রকম কার্যক্রম চালাতে না পারে, তার বিরুদ্ধে আমরা জোর প্রতিবাদ জানিয়ে আসব।”
জুলাই ঐক্যের এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহিরাগত প্রভাব বন্ধ করার জন্য জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে। বুধবার এই কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।








