মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো টেলিযোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন বা মানহানিকর বার্তা প্রেরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। এই খসড়া অনুযায়ী, দোষী প্রমাণিত হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
কঠোর হচ্ছে আইন: ২ বছরের দণ্ডাদেশ
টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার অপব্যবহার, হয়রানি এবং মানহানিকর কার্যকলাপ রোধে সরকার ‘টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধন)’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। এই খসড়া আইনে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরিত অশোভন, অশ্লীল, হুমকিমূলক বা মানহানিকর বার্তার ওপর।
নতুন বিধান অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে টেলিযোগাযোগ মাধ্যমের (যেমন: এসএমএস, কল বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভয়েস বা টেক্সট বার্তা) সাহায্যে এমন কোনো কনটেন্ট প্রেরণ করেন যা:
- অশোভন (Obscene): সামাজিক ও নৈতিক মানদণ্ডে অশালীন।
- মানহানিকর (Defamatory): প্রেরিত ব্যক্তির সম্মান বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।
- বিপজ্জনক বা হুমকিমূলক (Threatening): নিরাপত্তা বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।
তবে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শাস্তির বিধান
প্রস্তাবিত খসড়ায় এই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কেউ এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে নিম্নোক্ত শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ দুই (২) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
- জরিমানা: অর্থদণ্ড।
- উভয় দণ্ড: পরিস্থিতি ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই আরোপ করা যেতে পারে।
আইনের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
এই অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ডিজিটাল যোগাযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফোন ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির প্রবণতাও বাড়ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বিদ্যমান আইনগুলি হয়রানির এই দিকটি পুরোপুরি কভার করতে পারছিল না।
সরকার মনে করছে, এই কঠোর শাস্তিমূলক বিধানের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগের অপব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্তভাবে এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি সাইবার হয়রানি বন্ধ করতে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত নিয়ে খুব দ্রুতই এই খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পেশ করবে। মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে কার্যকর হবে।








