পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের রাজনৈতিক মহলে। গত কয়েক দিন ধরে আফগানিস্তানের বেশ কিছু গণমাধ্যম এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘুরপাক খাচ্ছে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি। একাধিক পোস্টে বলা হচ্ছে, রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলের ভেতরেই তাকে ‘রহস্যজনক পরিস্থিতিতে’ হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। এর আগেও তার গ্রেপ্তার এবং বিচার নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এবার তার জীবন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ওঠায় পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আফগান গণমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর দাবি
আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম সরাসরি দাবি করেছে যে, ইমরান খানকে জেলের ভেতর হত্যা করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যার পর তার মৃতদেহ গোপনে জেলচৌহদ্দির বাইরে পাচার করা হয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও এই দাবি সমর্থন করে দ্রুত পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো নিরপেক্ষ বা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা কারণে জল্পনা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষত যখন পাকিস্তানে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তখন এমন খবর স্বাভাবিকভাবেই জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি করছে।
পিটিআই সমর্থক ও পরিবারের অভিযোগ
ইমরান খানকে নিয়ে এই ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তার দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) এবং তার পরিবারের অভিযোগও ইন্ধন জুগিয়েছে।
বোনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
পিটিআই-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইমরান খানের তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে জেলের ভেতরে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতি চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার প্রতিবাদে তার তিন বোন রাওয়ালপিণ্ডি জেলের বাইরে প্রায় এক মাস ধরে ধর্নায় বসেন।
পিটিআই-এর দাবি, এই সময়ে পাঞ্জাব পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভকারী পিটিআই সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় ইমরানের তিন বোনকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দলটি।
পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ
পুলিশের এই আচরণের পরই ইমরান খানের নিরাপত্তা ও জীবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। ইমরান খানের তিন বোন ইতোমধ্যে পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শকের (IGP) কাছে এই হামলার ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই ধরনের কঠোরতা এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার প্রবণতা জেলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরকারের নীরবতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খানকে হত্যা করা হয়েছে বলে যে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারের এই নীরবতা জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
জেলবন্দি ইমরানকে নিয়ে এ ধরনের জল্পনা এই প্রথম নয়। তবে এবারের দাবি সরাসরি হত্যার অভিযোগ নিয়ে আসায় পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। ইমরান খানের সমর্থকরা মনে করছেন, তাকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে।
এই মুহূর্তে পাকিস্তান সরকার যদি দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ইমরান খানের বর্তমান অবস্থার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ প্রকাশ না করে, তবে এই জল্পনা ও বিতর্ক আরও বাড়তে থাকবে এবং দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে।








