বেশ কিছুদিন আগে সবার প্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি আর গান করবেন না। এর আগেই তিনি অভিনয় থেকেও ধীরে ধীরে সরে এসেছিলেন। ফলে ভক্তদের মনে নানা প্রশ্ন তাহসান কি পুরোপুরি মিডিয়া ছাড়ছেন? নাকি নতুন কোনো পথে যাচ্ছেন?
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের একটি কনসার্টে তাহসান প্রথমবারের মতো এই ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই কথাই মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বিষয়টি নিয়ে এখনো বিস্মিত তিনি। তাহসানের ভাষায়,
“মেলবোর্নের কনসার্টে যখন গান ছাড়ার কথা বলেছিলাম, তখন খুব কম মানুষ ছিল। ভাবিনি, এটা এত বড়ভাবে ছড়িয়ে পড়বে। আমি তো একটু আবেগপ্রবণ মানুষ। এমনভাবে বলে ফেলেছি যে ছড়িয়ে গেছে। আমার ওই কথার ফলে অনেক কিছু হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, যেমনভাবে অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে বিরতি নিয়েছেন, তেমনি গান থেকেও কিছুটা সময়ের জন্য দূরে থাকতে চান।
রাজনীতিতে যোগদানের গুঞ্জন
তাহসানের অবসরের ঘোষণার পরপরই ছড়িয়ে পড়ে আরেকটি খবর, তিনি নাকি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন! এমনকি একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলে তার নামও জড়িয়ে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবিতে টুপি বসিয়ে প্রচার চালানো হয় যে, তাহসান এখন রাজনীতিতে সক্রিয়।
এই বিষয়ে তাহসান খান নিজেই মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন,
“একটা জায়গায় দেখলাম, আমার ছবিতে টুপি দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি নাকি রাজনীতি করছি! আমার কাছে মনে হয় এগুলো একটা খেলার মতো বিষয়। এখন অনেক মানুষ ভাইরাল হওয়ার নেশায় থাকে। এটা পৃথিবীজুড়েই চলছে।”
তাহসানের মতে, এখন সময় এমন যে, প্রতিটি কথার আগে ভালোভাবে ভাবতে হয় কারণ, কখন কোন কথায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া হবে, কেউ জানে না।
অধ্যাপনায় নতুন মনোযোগ
তাহসান খান শুধু সংগীত বা অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। অবসরের পর এখন সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি।
তার ভাষায়,
“প্রত্যেক মানুষের জীবনে নানা অধ্যায় থাকে। প্রথমে মনে হয় কিছুই জানি না, পরে মনে হয় সব জেনে গেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আসলে কিছুই জানি না। আমাকে আরও অনেক পড়াশোনা করতে হবে।”
অধ্যাপনা এবং গবেষণার মাধ্যমে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন তাহসান। এই নতুন অধ্যায়ই এখন তার মূল আগ্রহের জায়গা।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা
তাহসান খান সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজ (যেখানে প্রায় এক কোটি অনুসারী ছিল) এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট (৩৫ লাখেরও বেশি অনুসারীসহ) ডিঅ্যাক্টিভ করে দিয়েছেন। এতে ভক্তরা অবাক হলেও, তাহসান বলছেন, এটা তার সচেতন সিদ্ধান্ত।
তিনি জানান,
“অবসরে যাওয়া মানুষের এসবের প্রয়োজন নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ভীষণ টক্সিক। ভালো কনটেন্টের চেয়ে খারাপ কনটেন্টই বেশি ভাইরাল হয়। অনেক দিন ধরেই বিরক্ত লাগছিল। আমি চাই মানুষ আমাকে আস্তে আস্তে ভুলে যাক।”
তার মতে, মিডিয়া থেকে দূরে থাকা মানে শান্তিতে থাকা। তাই তিনি চান না সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহলে নিজের মনোযোগ হারাতে।
তাহসানের জীবন নিয়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
তাহসানের এই সিদ্ধান্তে অনেক ভক্ত দুঃখ পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রশংসাও করছেন তার সাহসী সিদ্ধান্তের। অনেকে লিখেছেন, তাহসান শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি একজন চিন্তাশীল মানুষ, যিনি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে গভীরভাবে অনুভব করেন।
ভক্তদের কাছে তিনি এখনো অনুপ্রেরণার প্রতীক, একজন শিল্পী যিনি জনপ্রিয়তার চেয়ে নিজের মানসিক শান্তিকে বেছে নিয়েছেন।
নতুন যাত্রা, নতুন ভাবনা
গান ও অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর তাহসানের জীবন এখন এক নতুন পথে এগোচ্ছে। শিক্ষাজীবনে ফিরে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া, এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা সব মিলিয়ে এটি এক নতুন অধ্যায়।
তাহসান খান এখন হয়তো আলোচনায় কম থাকবেন, কিন্তু তার কাজ, গান ও চিন্তা মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে আরও অনেক বছর।








