হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকইতিহাস সৃষ্টি: আসিয়ানের একাদশ সদস্য হলো পূর্ব তিমুর
spot_img

ইতিহাস সৃষ্টি: আসিয়ানের একাদশ সদস্য হলো পূর্ব তিমুর

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে (ASEAN) যুক্ত হয়ে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে এশিয়ার নবীনতম সার্বভৌম রাষ্ট্র পূর্ব তিমুর, যা আন্তর্জাতিক মহলে তিমুর-লেসতে নামে পরিচিত। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের বার্ষিক উদ্বোধনী সম্মেলনে জোটের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটিকে তাদের পরিবারে স্বাগত জানিয়েছেন।

এক প্রতীকি বিজয় ও আশা জাগানো পথচলা

২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার দখলদারিত্ব থেকে স্বাধীনতা লাভ করা পূর্ব তিমুরের জন্য এই অর্জন কেবল একটি রাজনৈতিক স্বীকৃতি নয়, এটি দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই কিংবদন্তী নেতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রেসিডেন্ট হোজে রামোস হোর্তা এবং প্রধানমন্ত্রী জানানা গুজমাওয়ের জন্য এক গভীর প্রতীকী বিজয়।

আসিয়ানে যোগদানের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক উন্নতির আশা করা না হলেও, নবীন এই অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ১৪ হাজার ৯৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এবং ১৪ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দেশটির অর্থনীতির আকার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার) আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশের সম্মিলিত অর্থনীতির (৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার) তুলনায় খুবই নগণ্য। তবুও, এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ‘বিপুল সুযোগ’ তৈরি হবে বলে আশাবাদী পূর্ব তিমুর।

অনুষ্ঠানে আবেগ ও সংহতি

রোববার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যখন পূর্ব তিমুরের জাতীয় পতাকা সম্মেলন মঞ্চে স্থাপন করা হয়, তখন উপস্থিত অতিথিরা দীর্ঘ করতালির মাধ্যমে এই যোগদানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী জানানা গুজমাও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই মুহূর্তটিকে তার দেশের জন্য ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ঐতিহাসিক পটভূমি

প্রায় তিনশ বছর পর্তুগিজ উপনিবেশ থাকার পর ১৯৭৫ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করলেও, তখনই ইন্দোনেশিয়া এটি দখল করে নেয়। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ২০০২ সালে এটি বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পূর্ব তিমুর হলো দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত এশিয়ার একমাত্র দেশ, যার অধিকাংশ নাগরিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। ১৪ বছরের ধৈর্যশীল অপেক্ষার পর আসিয়ান পরিবারের অংশ হয়ে দেশটি এখন আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির নতুন পথে এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!