হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeবিশেষ খবরচট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট
spot_img

চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট



চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)-এর আদম ক্যাপ নামে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে নয়তলা ভবনটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের অন্যান্য তলায়।

 ৯টি ইউনিটের প্রাণপণ চেষ্টা

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ৯টি ইউনিট কাজ করছে। তীব্র ধোঁয়া ও বাতাসের কারণে আগুন নেভানোতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ বলেন,

“আমাদের নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও আমাদের সহায়তায় যোগ দিয়েছেন।”

ভেতরে ছিলেন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক

কারখানার শ্রমিকরা জানান, দুপুরের বিরতির সময় হঠাৎ ভবনের এক তলায় ধোঁয়া বের হতে দেখে কর্মীরা দৌড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানালা ও সিঁড়ি দিয়ে নামেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে কি না, তা যাচাই করছে প্রশাসন।

এক শ্রমিক বলেন,

“আমরা হঠাৎ ধোঁয়া দেখে নিচে নেমে আসি। অনেকেই ভিতরে ছিল, এখন খোঁজ নিচ্ছে সবাই।”

সেনা ও নৌবাহিনীর সহায়তা

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। তারা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে।

সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা বলেন,

“আমাদের উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ভবনের ভেতরে কেউ আটকে আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।”

আগুনের কারণ

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

আগুন লাগার পর চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকার রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও উদ্ধার যানবাহন চলাচলের জন্য পুলিশ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর এক কর্মকর্তা বলেন,

“আমরা ঘটনাস্থলে আছি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান কাজ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।”

তিনি জানান, কারখানায় প্রচুর রপ্তানিযোগ্য পণ্য ও কাঁচামাল মজুত ছিল, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি

দূর থেকে দেখা গেছে, আগুনের তীব্র লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠছে। আশপাশের কারখানার কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ভবনের ভেতরে এখনও ধোঁয়া জমে আছে। তাই পুনরায় আগুন লাগার আশঙ্কা এড়াতে কুলিং অপারেশন চলছে।

তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেপজা কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের কাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই আগুন পুরোপুরি নিভে না যাওয়া পর্যন্ত কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!