ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতলেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও গণতন্ত্রকন্যা হিসেবে পরিচিত মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয় আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউটে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে নামটি ঘোষণা করে নোবেল কমিটি।
নোবেল কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, “ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ়তা ও শান্তিপূর্ণ ভূমিকার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হলো।” দীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন মাচাদো। কখনো রাজনৈতিক হুমকি, কখনো প্রশাসনিক হয়রানি, আবার কখনো গ্রেপ্তার আতঙ্ক– কিছুই দমাতে পারেনি তাঁকে। বরং মাচাদো লড়েছেন নিরস্ত্রভাবে, গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে।
৫৭ বছর বয়সী মারিয়া কোরিনা মাচাদো পেশায় একজন প্রকৌশলী। তিনি ভেনেজুয়েলার সুপরিচিত রাজনৈতিক সংগঠন ভেন্তে ভেনেজুয়েলা–র প্রতিষ্ঠাতা। দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বাচন কারচুপি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গত দশ বছরে ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি বিশ্বরাজনীতিতে আলোড়ন তোলে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তাঁর নেতৃত্ব না থাকলে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আশা সম্ভবত আরও বিলীন হয়ে যেত।
তবে মাচাদোর পথ সহজ ছিল না। বিরোধী রাজনীতির কারণে একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপরও আরোপ করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তবুও জনগণের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার বদলায়নি। বরং তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে লবিং চালিয়ে গেছেন নিরন্তরভাবে।
এখন পর্যন্ত শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা, ম্যালালা ইউসুফজাই, বারাক ওবামাসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থা। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছিল জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন ‘নিহন হিদানকায়ো’। এবারের পুরস্কারটি মাচাদোর জন্য যেমন ব্যক্তিগত সম্মানের, তেমনি ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র সংগ্রামের জন্য এক বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।








