চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে আজ রোববার থেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর দুই দিনের সম্মেলন শুরু হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এই সম্মেলনে অংশ নিতে চীনে পৌঁছেছেন।
সদস্য ও অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ
এসসিওর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ। এছাড়াও আরও ১৬টি দেশ ‘পর্যবেক্ষক’ বা ‘সংলাপ সহযোগী’ হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে। আরও দেখুন…
গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন এবং বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। একদিন আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তিয়ানজিনে পৌঁছেছেন।
এছাড়াও অংশ নিচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হর্নও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সম্মেলনের উদ্দেশ্য
বোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো বিভিন্ন কারণে অংশ নিচ্ছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্দেশ্যে এসেছেন। ভারতের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ দমন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনা
সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যথাক্রমে ইউক্রেন সংঘাত ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন।
জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিম তাইওয়েই বলেন, “পুতিনের জন্য এই সম্মেলন বিশ্বমঞ্চে নিজেকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ। একইসাথে রাশিয়ার জন্য ভারতের অর্থনৈতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কারণে ভারতীয় বাণিজ্যে যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা রাশিয়ার কাছে সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ে চীনে সম্মেলন হওয়াটা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”








