আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের জন্য এক বড় চমক অপেক্ষা করছে। ৩০০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮টি আসনের ব্যালট পেপারে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ থাকছে না। জোটের শরিকদের সাথে আসন সমঝোতা এবং আইনি জটিলতায় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জোটের শরিকদের নিজস্ব প্রতীকে লড়াই
বিএনপি এবার জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে শরিক দলগুলোর জন্য ১১টি আসন ছেড়ে দিয়েছে তারা। এর মধ্যে:
- ৭টি আসনে: শরিক দলগুলো তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছে। ফলে এসব আসনে ধানের শীষ থাকছে না।
- ৪টি আসনে: অন্য দলের প্রার্থীরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৪ আসন
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ৪টি আসন পেয়েছে। এই আসনগুলোতে দলটির প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীক নিয়ে লড়াই করবেন:
১. সিলেট-৫: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
২. নীলফামারী-১: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
৩. নারায়ণগঞ্জ-৪: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
আইনি জটিলতায় প্রতীকহীন কুমিল্লা-৪
নির্বাচনী মাঠে বড় ধাক্কা খেয়েছে কুমিল্লা-৪ আসন। ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন পত্র আদালত চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে। এই আসনে বিএনপির বিকল্প কোনো প্রার্থী না থাকায় এখানেও ব্যালটে ‘ধানের শীষ’ থাকছে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। যদি তার প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে ধানের শীষ বিহীন আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়ে ৯টিতে পৌঁছাতে পারে।
অন্য দল থেকে এসে ধানের শীষের কান্ডারি যারা
জোটের রাজনীতিতে আদর্শিক মিল থাকলেও প্রতীকের টানে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭): এলডিপি থেকে পদত্যাগ করে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন।
- ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২): এনপিপি চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
- ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩): এনডিএম প্রধান হিসেবে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।
- মুহাম্মদ রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-৪): গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপির প্রতীকে লড়ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীকের এই রদবদল নির্বাচনী ফলাফলে কেমন প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।








