হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Monday, August 10, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
spot_img

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিকম্প। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে ঘনঘন ছোট ছোট কম্পন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট ছোট কম্পনগুলো আসলে বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে। প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়া এই অঞ্চলের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি বড় বিপদেরও সংকেত।

কেন বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ তিনটি শক্তিশালী টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এগুলো হলো ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা প্লেট। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে।

সবশেষ ১৯৩০ সালে বাংলাদেশে ৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তারও আগে ১৮৯৭ সালে ৮ মাত্রার ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ এই অঞ্চলকে তছনছ করে দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর এসব ফল্ট লাইনে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোনে’ অবস্থান করছে।

ঘনঘন ছোট কম্পন কি বড় বিপদের লক্ষণ

সম্প্রতি নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৪ থেকে ৫.৭ মাত্রার বেশ কিছু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুধু এক মাসেই প্রায় ১০ বার কেঁপে উঠেছে দেশ। এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, যখন প্লেট বাউন্ডারিতে শক্তি জমা হতে হতে আর জায়গা পায় না, তখন তা বের হওয়ার চেষ্টা করে। বারবার ছোট ছোট কম্পন হওয়া মানে হচ্ছে মাটির নিচে বড় কোনো শক্তি জমা হচ্ছে যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।

রাজধানীর আবাসন ও আমাদের নিরাপত্তা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ ভবন ৬ তলার উপরে। আতঙ্কের বিষয় হলো, এর মধ্যে ৯০ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা (BNBC) না মানার কারণে ঢাকা শহর এখন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে বড় ভূমিকম্পের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে আমাদের প্রধানত তিনটি দিকে নজর দিতে হবে:

  • ভবনের স্থায়িত্ব যাচাই: আপনার বাড়িটি কতটুকু নিরাপদ তা অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক করিয়ে নিন (Building Assessment)। প্রয়োজনে রেট্রোফিটিং করে ভবন মজবুত করতে হবে।
  • সচেতনতা বৃদ্ধি: ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। টেবিল বা শক্ত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • সরকারি তদারকি: নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রতিটি ভবন ভূমিকম্প সহনীয় হয়।

ভূমিকম্পের সময় ও পরে যা করবেন

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাই প্রস্তুতিই একমাত্র ভরসা।

  • ঘরের ভেতর থাকলে: জানালার কাঁচ থেকে দূরে থাকুন। দ্রুত কোনো শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে পড়ুন এবং মাথার ওপর হাত বা বালিশ দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।
  • লিফট ব্যবহার করবেন না: ভূমিকম্পের সময় ভুলেও লিফট ব্যবহার করবেন না। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত খোলা জায়গায় বের হওয়ার চেষ্টা করুন।
  • গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখুন: কম্পন থেমে যাওয়ার সাথে সাথে বাসার মেইন সুইচ এবং গ্যাসের নব বন্ধ করে দিন যেন অগ্নিকাণ্ড না ঘটে।
  • খোলা জায়গায় অবস্থান: যদি আপনি বাইরে থাকেন, তবে উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা বড় গাছ থেকে দূরে কোনো ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ান।

প্রকৃতির ওপর মানুষের হাত নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। জাপান বা চিলির মতো দেশগুলো ভূমিকম্প সহনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে ব্যক্তিগত ও সরকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়ার। আপনার বাড়িটি কি ভূমিকম্প সহনীয়? আজই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং নিরাপদ থাকুন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!