দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর মাগরিবের আজান শুনে আমরা যখন ইফতার করি, তখন অনেকেরই শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব নেমে আসে। সারাদিন রোজা রাখার পর এমন দুর্বলতা অনুভব করা স্বাভাবিক হলেও কিছু নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই এই ক্লান্তি দূর করা সম্ভব।
ইফতারের পর নিজেকে সতেজ রাখতে এবং পরবর্তী দিনের রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
ইফতারের পর ক্লান্তি ও ঝিমুনি দূর করার প্রধান শর্ত হলো অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত এবং চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। ভাজাপোড়া খাবার পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে এবং শরীরকে আরও ভারী করে তোলে। খাবার খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান।
বিরতি দিয়ে অল্প অল্প করে খান
একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খাওয়া ক্লান্তি লাগার অন্যতম বড় কারণ। ক্ষুধার্ত অবস্থায় সামনে অনেক খাবার দেখলে আমরা দ্রুত খেয়ে ফেলি, যা হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।
- সঠিক নিয়ম: প্রথমে একটি খেজুর ও পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিন। এতে আপনার পাকস্থলী খাবার হজমের জন্য তৈরি হওয়ার সময় পাবে। নামাজ শেষ করে বাকি খাবার অল্প অল্প করে খান। এতে শরীর ক্লান্ত হবে না।
পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত তরল
সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানির যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা ইফতারের পরপরই পূরণ করা জরুরি। ইফতারে শুধু সাধারণ পানি নয়, বরং নিচের পানীয়গুলো রাখতে পারেন:
- টাটকা ফলের রস
- ডাবের পানি
- ঘরে তৈরি লেবুর শরবত এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শরীরের সতেজতা ফিরিয়ে আনে।
ইফতারের পর শরীর সচল রাখুন
অনেকেই ইফতার করার পরপরই শুয়ে পড়েন, যা মোটেও ঠিক নয়। এতে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে অলসতা বাড়ে। ইফতারের পর কিছুক্ষণ ঘরের মধ্যে বা বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করুন। মনে রাখবেন, শরীর অনেকটা মনের নির্দেশে চলে; তাই নিজেকে ক্লান্ত না ভেবে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
চা বা কফির পরিমিত ব্যবহার
রমজানে অনেকেই চা বা কফি খাওয়া ছেড়ে দেন। তবে ইফতারের পর হালকা এক কাপ চা বা কফি আপনার ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করতে পারে। ক্যাফেইন আপনাকে ভেতর থেকে সতেজ রাখবে। তবে খেয়াল রাখবেন চা যেন খুব বেশি কড়া না হয়।
বিশেষ পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে প্রচুর পানি পান নিশ্চিত করুন। ভাজাপোড়ার বদলে ফলমূল ও দই-চিঁড়ার মতো সহজপাচ্য খাবার আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে বেশি কার্যকর।








