হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতন: ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক তথ্য
spot_img

তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতন: ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক তথ্য

২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকার এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর চালানো নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বিশেষ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি এসব তথ্য জানান। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়ান ইলেভেন ও ডিজিএফআইয়ের ‘টর্চার সেল’

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআই হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক। তারা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের তুলে এনে নিজেদের গোপন সেলে আটকে রাখত।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “তারা তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করেন।” জেনারেল ইকবালের মতে, বেসামরিক নাগরিকদের তুলে এনে আটকে রাখা ডিজিএফআইয়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে তাদের মধ্যে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে যে, তারা ভাবতে শুরু করেন যে কোনো ব্যক্তিকে তুলে এনে যা ইচ্ছা তাই করা সম্ভব।

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ ও লাইসেন্স টু কিল

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ২০০৩ সালের আলোচিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি জানান, র‍্যাব গঠনের আগে এই অপারেশনে অনেক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

  • সরকারি তথ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১২ জন।
  • তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ছিল অন্তত ৬০ জন।

সাবেক সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন যে, পরবর্তীতে ওই অভিযানে জড়িতদের আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত ছিল ‘লাইসেন্স টু কিল’ বা হত্যার বৈধতা দেওয়ার সমান।

ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম

এদিন মামলার শুরুতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আজ গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিলেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তার এই সাক্ষ্য ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলা নির্যাতনের অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করল।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!