জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে তৈরি হতে যাচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন, এর জন্য স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি থাকা দুটি সরকারি বাসভবনকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দুটি দোতলা লাল ইটের বাড়ির মাঝখানে একটি সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এগুলো একত্রিত করে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন তৈরি হবে। পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি দুই স্তরের করিডরও নির্মাণ করা হবে।
আওয়ামী লীগের আমলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে। পরে সেটিকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর” করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী নভেম্বরে এ জাদুঘর উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বসবাস করছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য বাসভবনের স্থান নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। শুরুতে যমুনা এবং হেয়ার রোডের বাংলো বাড়ি বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুব উস সামাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসভবন দুটি ঘুরে দেখেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পুরো এলাকা পরিদর্শন করেন।
তবে স্থপতিদের একটি অংশ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন আধুনিক স্থাপত্যশৈলির বিশ্বসেরা নিদর্শনগুলোর একটি। এর নকশার ব্যত্যয় ঘটালে স্থাপত্যের উৎকর্ষ নষ্ট হবে। তিনি আরও জানান, সংসদ ভবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ চলছে।
২০০৩ সালে পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা ও স্থপতিদের সংগঠন হাইকোর্টে রিট করলে ২০০৪ সালে এ ধরনের নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা হয়। তবে ২০২২ সালে আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করে দেয়।
সর্বশেষ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এ বাসভবনে ছিলেন। গত বছরের আগস্টে সরকারের পতনের পর থেকে ভবন দুটি খালি পড়ে আছে।








