হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের চার্জ প্রত্যাহার: গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর!
spot_img

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের চার্জ প্রত্যাহার: গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর!

দেশের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য এক বিশাল সুখবর এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রিপেইড মিটারের যে অতিরিক্ত মাসিক চার্জ নেওয়া হতো, তা অবশেষে প্রত্যাহার করেছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে যেমন স্বস্তি ফিরবে, তেমনই প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের খরচও অনেকটা কমে আসবে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের মনে এই বাড়তি বিল বা চার্জ নিয়ে নানা ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল। অবশেষে জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত এবং কারা জানাল এই সুখবর?

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মিডিয়া সেলের ওই পোস্টে বলা হয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মন্ত্রী আগে কী আশ্বাস দিয়েছিলেন?

এই সিদ্ধান্ত কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে যে অতিরিক্ত মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ নেওয়া হয়, তা দ্রুতই প্রত্যাহার করা হবে। মন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলো, যা সাধারণ গ্রাহকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

আগে প্রিপেইড মিটারে কত টাকা অতিরিক্ত কাটত?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আগে প্রিপেইড মিটারে প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা বাড়তি কেটে নেওয়া হতো। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হিসাব অনুযায়ী:

  • ডিমান্ড চার্জ: প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসিক ডিমান্ড চার্জ ছিল ৪২ টাকা।
  • মিটার ভাড়া: সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য প্রতি মাসে মিটার ভাড়া বাবদ কাটা হতো ৪০ টাকা।
  • ভ্যাট: এই পুরো চার্জের সাথে যুক্ত হতো আরও অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট।

সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই গ্রাহকদের পকেট থেকে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা শুধু এই চার্জ বাবদই চলে যেত, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ ছিল না।

সাধারণ মানুষের মনে কেন ক্ষোভ ছিল?

প্রিপেইড মিটার মূলত আনা হয়েছিল যাতে গ্রাহকরা যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, ঠিক ততটুকু টাকার বিলই পরিশোধ করেন। এতে বিদ্যুৎ অপচয় কমার পাশাপাশি বাড়তি বিলের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছিল, প্রতি মাসে মিটার রিচার্জ করার সাথে সাথেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাটের নামে বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হতো।

এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে এই অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের জন্য জোর দাবি উঠছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের কী লাভ হবে?

সরকার এই বাড়তি চার্জ তুলে নেওয়ার পর এখন থেকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

১. পুরো টাকার বিদ্যুৎ: এখন থেকে টাকা রিচার্জ করলে কোনো বাড়তি ভুতুড়ে চার্জ বা ভাড়া কাটা হবে না। ফলে গ্রাহক যে টাকা রিচার্জ করবেন, তার প্রায় পুরো অংশই বিদ্যুৎ ব্যবহারে খরচ করতে পারবেন।

২. আর্থিক সাশ্রয়: প্রতি মাসে মিটারের পেছনে যে স্থায়ী খরচটি হতো, সেটি বেঁচে যাওয়ায় বছরের শেষে প্রতিটি পরিবারের বেশ কিছু টাকা সাশ্রয় হবে।

৩. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের ১০০ দিনের পরিকল্পনা

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি। বিদ্যুৎ খাতের এই বড় সংস্কার প্রমাণ করে যে, জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের লাগাম টেনে ধরাই এই মুহূর্তে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের সেবার মান আরও বাড়াতে এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে এই ধরনের আরও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!