বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Economic Partnership Agreement – EPA) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণা দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
আলোচনার দীর্ঘ পথ ও চূড়ান্ত সফলতা
২০২৪ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরুর পর থেকে দ্রুততম সময়ে এই নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে।
- ধাপসমূহ: টোকিও এবং ঢাকায় মোট সাতটি পর্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ৩ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর টোকিওতে সপ্তম ও চূড়ান্ত দফা আলোচনার মাধ্যমে ইপিএ-এর পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।
- নেতৃত্ব: বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা ও একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সফর এই চুক্তির অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশের জন্য বিশাল সুযোগ: ৭৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা
এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ জাপানের বাজারে বিশাল বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করবে।
- রপ্তানি সুবিধা: চুক্তির প্রথম দিন থেকেই তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
- জাপানের সুবিধা: পক্ষান্তরে জাপান বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
সেবা খাতে বড় অঙ্গীকার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কেবল পণ্য বাণিজ্য নয়, সেবা খাতের ক্ষেত্রেও উভয় দেশ বড় ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
- জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত চারটি মোডে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলডিসি উত্তরণে প্রথম বড় চুক্তি
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটিই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। এটি এলডিসি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর
আলোচনা পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হলেও চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরের আগে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষের আইনি যাচাই (Legal Scrubbing) সম্পন্ন করা হবে এবং উপদেষ্টা পরিষদ বা মন্ত্রিসভার প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।








