বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত সভায় যুবদলের নবগঠিত কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘সুপার সেভেন’ খ্যাত সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
যুবদলের নতুন কমিটি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ৪ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত এই কমিটিতে রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা আশরাফ জালাল খান মনন-কে সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যুবদলের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নতুন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি যুবদলের মাঠপর্যায়ের শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মননের বিশেষ গাইডলাইন
মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে নিজের অনুভূতি এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা প্রকাশ করেন আশরাফ জালাল খান মনন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দল তাঁকে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন।
সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন:
- আদর্শিক প্রচার প্রসার: জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাহিত্য ও প্রকাশনা বিভাগের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা হবে।
- ঐক্য ও সমন্বয়: যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ আরও নিবিড় করা এবং সবাইকে সাথে নিয়ে একতাবদ্ধভাবে কাজ করা।
- মেধার মূল্যায়ন: যুবদলে মেধা, সততা ও প্রজ্ঞার চর্চা বাড়ানো, যাতে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতিতেও যুবদল অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।
আশরাফ জালাল খান মনন বলেন: “দল আমাকে যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে, তা সঠিকভাবে পালন করতে আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করছি। যুবদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকব।”
রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস
ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন আশরাফ জালাল খান মনন। রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার এই কৃতি সন্তান যুবদলের অন্যতম প্রভাবশালী সম্পাদকীয় পদ পাওয়ায় তাঁর নিজ এলাকাসহ দেশজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন-এর মেধা, আইনি প্রজ্ঞা এবং বলিষ্ঠ সাংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে যুবদলকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক যুব সংগঠনে রূপান্তর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।








