দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামোতে নিচের দিকে থাকা ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে সরকারি খরচের সামঞ্জস্য রাখতে এবং দেশের আর্থিক চাপ সামলাতে এই নতুন বেতন স্কেলের অর্থ একবারে দেওয়া হবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বর্ধিত এই বেতন ও ভাতার সুবিধা ধাপে ধাপে চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাবে।
নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাভবান হবেন দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হিসাব
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল বেতনটি মোট তিন ধাপে যুক্ত করা হবে:
- প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬): বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ টাকা মূল বেতনের সাথে যোগ হবে।
- দ্বিতীয় ধাপ (জানুয়ারি ২০২৭): আরও ৩০ শতাংশ টাকা যুক্ত হবে।
- তৃতীয় ধাপ (জুলাই ২০২৭): বাকি থাকা ৩০ শতাংশ টাকা যুক্ত হবে।
এই তিন ধাপ অতিক্রম করার পর এই গ্রেডের কর্মকর্তাদের নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।
দশম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হিসাব
দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বেতন তিন ধাপে বাড়বে। তবে প্রথম ধাপে তাদের তুলনামূলক বেশি টাকা দেওয়া হবে:
- প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬): বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ টাকা প্রথম দিনেই যুক্ত হবে।
- দ্বিতীয় ধাপ (জানুয়ারি ২০২৭): আরও ২৫ শতাংশ টাকা যুক্ত করা হবে।
- তৃতীয় ধাপ (জুলাই ২০২৭): অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ টাকা যুক্ত হবে।
মূল বেতন তিন ধাপে যুক্ত হওয়ার পর, ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে এই গ্রেডের কর্মীরা নতুন মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝে নিন বেতনের হিসাব
বিষয়টি বোঝার জন্য নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার উদাহরণ দেওয়া যাক। বর্তমানে ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে স্কেলে তা ১০০ শতাংশ বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ তার মূল বেতন বাড়ছে ২২ হাজার টাকা।
এই বর্ধিত ২২ হাজার টাকা তিনি যেভাবে ধাপে ধাপে পাবেন:
- ১ জুলাই ২০২৬: বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ (৮,৮০০ টাকা) যুক্ত হয়ে মূল বেতন হবে ৩০,৮০০ টাকা।
- জানুয়ারি ২০২৭: আরও ৩০ শতাংশ (৬,৬০০ টাকা) যুক্ত হয়ে মূল বেতন হবে ৩৭,৪০০ টাকা।
- জুলাই ২০২৭: বাকি ৩০ শতাংশ (৬,৬০০ টাকা) যুক্ত হয়ে মূল বেতন গিয়ে ঠেকবে পূর্ণ ৪৪,০০০ টাকায়।
এর পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে এই ৪৪ হাজার টাকার ওপর ভিত্তি করে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হবে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও অতিরিক্ত প্রাপ্তি
উপরে উল্লেখিত হিসাবটি শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতনের একটি সাধারণ উদাহরণ। বাস্তবে একজন সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের চেয়েও বেশি টাকা হাতে পাবেন। কারণ প্রতিবছর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের সাথে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হতে থাকে। ফলে নতুন স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর ইনক্রিমেন্ট ও নতুন ভাতা যুক্ত হয়ে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি অর্থনৈতিক স্বস্তিও ফিরবে। চার ধাপের এই সহজ প্রক্রিয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী নতুন কাঠামোর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।








