দেশের অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করছে। এর অংশ হিসেবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি দিতে নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে ৩০ জুন জারি করা এক নির্দেশনায় এই নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার তারিখ ও বিস্তারিত নিয়মাবলি জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনাটি ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনের সময়সূচি ও প্রচার-প্রচারণা
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। প্রচারণার মাস শেষ হতেই আগামী ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং তা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
আবেদনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে dss.bhata.gov.bd এই অফিশিয়াল ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের জন্য কী কী যোগ্যতা ও তথ্য লাগবে?
অনলাইনে আবেদন করার সময় আবেদনকারীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নিয়মাবলি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে:
- স্থায়ী ঠিকানা: আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে।
- প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য শর্ত: যারা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ থাকা বাধ্যতামূলক।
- মোবাইল ও এনআইডি: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
- হিসাবের তথ্য: নিজের মোবাইল ব্যাংকিং বা সাধারণ ব্যাংক হিসাবের সঠিক তথ্য দিতে হবে। কেউ যদি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেন, তবে যোগাযোগের জন্য একটি অতিরিক্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বরও প্রদান করতে হবে।
কারা আবেদনের যোগ্য হবেন না?
সমাজসেবা অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত কোনো আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবেন না।
যারা আগে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য নিয়ম
আপনি যদি আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকেন এবং বর্তমানে অপেক্ষমাণ তালিকায় (Waiting List) নাম থাকে, তবে আপনার জন্য সুখবর। সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আর আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
চূড়ান্ত তালিকা ও ভাতা প্রাপ্তি
নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন আবেদন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আগের সব আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বরাদ্দের প্রাপ্যতা অনুযায়ী বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে চূড়ান্ত উপকারভোগী বা ভাতাভোগীদের তালিকা অনুমোদন করা হবে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এই উপকারভোগীরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সরকারের এই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আপনার আশেপাশে কোনো যোগ্য বয়স্ক, বিধবা বা প্রতিবন্ধী মানুষ থাকলে তাঁদের এই আবেদনের বিষয়ে জানিয়ে সহযোগিতা করুন। এই আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখুন। দেশের সব দরকারি ও সরকারি সেবার আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের নিউজপেপার ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।








