দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এখন থেকে কোনো চালক যদি নির্ধারিত কর্মঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় ধরে গণপরিবহণ চালান, তবে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করা হতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
বিআরটিএ জানিয়েছে, একটানা দীর্ঘ সময় ধরে গণপরিবহণ চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ঝিমুনি আসে। এমনকি চলন্ত অবস্থায় ঘুমের প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং চালক, চালকের সহকারী, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতেই নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে গাড়ি চালানোর জন্য এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কত?
বিদ্যমান মোটরযান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী একজন চালকের দৈনিক ও সাপ্তাহিক কাজের সময় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ মোটরযান আইনের নিয়মগুলো আবার মনে করিয়ে দিয়েছে:
- টানা ৫ ঘণ্টার নিয়ম: কোনো চালক একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি সময় কোনো যানবাহন চালাতে পারবেন না।
- বিশ্রামের সুযোগ: ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর চালককে অবশ্যই অন্তত আধা ঘণ্টা (৩০ মিনিট) বিশ্রাম দিতে হবে।
- দৈনিক সর্বোচ্চ সময়: বিশ্রামের পর একজন চালক সর্বোচ্চ আরও ৩ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারবেন। অর্থাৎ, দিনে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করা যাবে না।
- সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা: একজন চালক সপ্তাহে কোনোভাবেই ৪৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না।
আইন অমান্য করলে কী শাস্তি হবে?
বিআরটিএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে যে, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা না মেনে গাড়ি চালালে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই জনস্বার্থে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মোটরযান মালিক ও চালকদের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যদি কোনো মালিক বা চালক এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তবে বিআরটিএ আইনি ব্যবস্থা নেবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা।
- আইন অমান্যকারী যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) বাতিল করা।
সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে চালক ও মালিকদের সহযোগিতা করার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে। প্রয়োজনে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিআরটিএর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএর এই নতুন পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও, এটি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।








