হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার নিয়ম জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
spot_img

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার নিয়ম জানালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যোগ্য ও প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। তবে এবার আর যে কেউ চাইলেই এই কার্ড পাবেন না; বরং তিন স্তরের কঠোর স্ক্রিনিং বা পর্যবেক্ষণ পার হয়ে তবেই মিলবে এই সরকারি সুবিধা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সরকারের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

কেন এই তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ?

বিগত দিনে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এবার সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মতে, প্রকৃত অভাবী মানুষ যেন তালিকার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই মাল্টি-লেভেল স্ক্রিনিং ব্যবস্থা।

পর্যবেক্ষণের তিনটি ধাপ

  • প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন: স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রাথমিক ডাটাবেজ তৈরি।
  • যাচাই-বাছাই: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে যাতে একই পরিবার বারবার সুবিধা না পায়।
  • চূড়ান্ত অনুমোদন: উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষক দলের মাধ্যমে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হবে যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে অন্তর্ভুক্ত না হতে পারে।

যারা পাবেন এই ফ্যামিলি কার্ড

সরকারের এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা মানুষগুলো। মন্ত্রী জাহিদ হোসেন স্পষ্ট করেছেন যে, অগ্রাধিকার পাবেন:

  • হতদরিদ্র ও অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার: যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস নেই।
  • নারীদের অগ্রাধিকার: পরিবারে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: যারা নাগরিক সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে আছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত

স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি রোধে এবার পুরনো পদ্ধতির বদলে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। মন্ত্রী বলেন, “কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই স্বচ্ছ করা হবে যাতে সেখানে কোনো প্রকার দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। এটি সরাসরি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাবে।”

এর ফলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী হবে এবং সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে যাবে।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য

সরকারের এই মহতী উদ্যোগের পেছনে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে:

  • আর্থিক নিরাপত্তা: নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো।
  • নারীর ক্ষমতায়ন: পরিবারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
  • বৈষম্য হ্রাস: ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন।

সরকারের এই তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যদি সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রকৃত অভাবী মানুষগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ পরিবারে সচ্ছলতা ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!