হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ
spot_img

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তাল সাংবাদিক পাড়া। ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসি। এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ‘নগ্ন, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

ডিআরইউ-এর কড়া প্রতিক্রিয়া

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া সাংবাদিকতা অসম্ভব। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল তথ্য সংগ্রহে বাধা নয়, বরং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে সাংবাদিকতায় যেসব বাধা আসবে

ডিআরইউ-এর মতে, আধুনিক সাংবাদিকতা এখন স্মার্টফোন নির্ভর। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া। এর ফলে সাংবাদিকরা নিচের কাজগুলো করতে পারবেন না:

  • তাৎক্ষণিক সংবাদ: কোনো অনিয়ম ঘটলে তা দ্রুত লাইভ বা রিপোর্ট করা সম্ভব হবে না।
  • তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ: ভিডিও ফুটেজ বা স্থির চিত্র ধারণ করা যাবে না, যা অনিয়ম নথিভুক্ত করার প্রধান হাতিয়ার।
  • জরুরি যোগাযোগ: কেন্দ্রের ভেতরে কোনো সমস্যার কথা বাইরে সহকর্মীদের জানানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে

বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, ৪শ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ করার এই যুক্তি ভিত্তিহীন। তারা মনে করেন, এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার নাম করে মূলত ভোটের অনিয়ম আড়াল করার একটি পরিকল্পিত সুযোগ তৈরি করা। সাংবাদিকদের তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা মানেই হলো নির্বাচনকে অস্বচ্ছ করে তোলা।

নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত নির্দেশনা

ইসি’র জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া আর কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা সংবিধান স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে।

আলটিমেটাম ও পরবর্তী কর্মসূচি

ডিআরইউ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়। সংগঠনটি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে:

  • অবিলম্বে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
  • গণমাধ্যমবিরোধী এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
  • স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে বা তাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা কেড়ে নিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের উচিত সাংবাদিকদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!