সাধারণত প্রতি বছর মুসলমানরা দুটি ঈদ উদযাপন করে থাকেন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। কিন্তু আপনি কি জানেন, খুব শীঘ্রই এমন একটি বছর আসছে, যেই বছরে মুসলমানরা একবার বা দুবার নয়, বরং তিনবার ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাবেন? শুধু তাই নয়, সেই একই বছরে পবিত্র হজও অনুষ্ঠিত হবে দুইবার!
শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং হিজরি বর্ষপঞ্জির হিসাব অনুযায়ী এমনটাই ঘটতে যাচ্ছে ২০৩৯ সালে। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ এই বিরল ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন এবং কীভাবে এই বিরল ঘটনাটি ঘটবে।
কেন ঘটবে এমন বিরল ঘটনা?
আমরা সচরাচর যে ইংরেজি ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করি, তা চলে সূর্যের গতির ওপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে, মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো পালিত হয় হিজরি বা চন্দ্রবর্ষের ওপর ভিত্তি করে। এখানেই মূলত সময়ের পার্থক্যটা তৈরি হয়।
সূর্যভিত্তিক ইংরেজি বছর হয় ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনে। কিন্তু চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হিজরি বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে। অর্থাৎ, ইংরেজি বছরের তুলনায় হিজরি বছর প্রতিবার ১০ থেকে ১১ দিন কমে যায়। এই ১০-১১ দিনের পার্থক্যের কারণেই প্রতি বছর ঈদ এবং রমজান মাস ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পেছনের দিকে সরে আসে। এই সময়ের ব্যবধানের কারণেই দীর্ঘ ৩৩ বছর পর পর এমন একটি চক্র আসে, যখন একই ইংরেজি বছরে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পড়ে যায়।
২০৩৯ সালের ঈদের সময়সূচি
ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালটি হবে মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং ব্যস্ততম একটি বছর। ওই বছর তিনটি ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সময়সূচিটি হতে পারে এমন:
১. প্রথম ঈদুল আজহা: ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে বছরের প্রথম ঈদুল আজহা। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি হবে ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ। অর্থাৎ বছরের শুরুতেই হজ এবং কোরবানির ঈদ পালিত হবে।
২. ঈদুল ফিতর: এরপর রমজান মাস শেষে ১৯ অক্টোবর পালিত হতে পারে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ।
৩. দ্বিতীয় ঈদুল আজহা: বছরের একেবারে শেষ দিকে, অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর আবারও পালিত হবে ঈদুল আজহা। তখন হিজরি সন হবে ১৪৬১ এবং তারিখ হবে ১০ জিলহজ।
অর্থাৎ, ২০৩৯ সালে জানুয়ারি মাসে একবার কোরবানি হবে এবং ডিসেম্বর মাসে আবারও কোরবানি বা ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাঝখানে অক্টোবর মাসে পালিত হবে ঈদুল ফিতর। সব মিলিয়ে এক বছরে ৩টি ঈদ!
একই বছরে দুইবার পবিত্র হজ
শুধু ঈদ নয়, ২০৩৯ সালটি হজের জন্যও একটি ঐতিহাসিক বছর হতে যাচ্ছে। যেহেতু বছরের শুরুতে (জানুয়ারি) এবং শেষে (ডিসেম্বর) দুইবার জিলহজ মাস পাওয়া যাবে, তাই ওই বছর পবিত্র হজও অনুষ্ঠিত হবে দুইবার।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা, অর্থাৎ পবিত্র আরাফার দিনও পালিত হবে দুইবার। মুসলিমরা একই বছরে দুবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া ও ইবাদত করার বিরল সুযোগ পাবেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা খুবই কম দেখা যায়।
২০৩০ সালেও আছে বড় চমক
২০৩৯ সালের এই ঘটনার আগে, ২০৩০ সালেও একটি মজার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০৩০ সালে মুসলমানরা একই বছরে দুটি রমজান মাস পাবেন।
হিসাব অনুযায়ী:
- ২০৩০ সালের জানুয়ারি মাসে একবার রমজান শুরু হবে।
- এরপর আবার সেই বছরের ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বারের মতো রমজান মাস শুরু হবে।
এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৩৩ বছর পর পর চন্দ্রবর্ষের এই চক্রটি পূর্ণ হয় এবং ঋতু পরিবর্তন করে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে।
মহান আল্লাহর সৃষ্টি এই মহাবিশ্বের সময় পরিক্রমা অত্যন্ত নিখুঁত। চাঁদ ও সূর্যের এই ভিন্ন ভিন্ন গতির ফলেই আমরা ঋতু পরিবর্তন এবং সময়ের এই বৈচিত্র্য দেখতে পাই। ২০৩৯ সাল আসতে এখনো বেশ দেরি থাকলেও, এই আগাম বার্তা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এখনই কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। এক বছরে রোজা, দুটি হজ, কোরবানি এবং তিনটি ঈদের আনন্দ-উৎসব মিলিয়ে ২০৩৯ সালটি হতে যাচ্ছে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের বছর।








