সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘গণতন্ত্রের মা’ খ্যাত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অভিযোগ করেছেন যে, দেশনেত্রী স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেনি, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ‘স্লো পয়জনিং’ বা ধীর গতির বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (০২ ডিসেম্বর) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
স্লো পয়জনিং ও বিনা চিকিৎসায় হত্যার অভিযোগ
আমানউল্লাহ আমান তার বক্তব্যে বিগত সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি ছিল একটি ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। তাকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা মনে করেন, দেশের মানুষের প্রতি খালেদা জিয়ার যে ভালোবাসা এবং অভিভাবকসুলভ ছায়া ছিল, তা মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন সরকার। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জনগণের অভিভাবক। এই বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন আমানউল্লাহ আমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনা কোনোভাবেই এড়াতে পারবেন না। আমান বলেন, “আমরা তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলবো না। এর দায় শেখ হাসিনাকে নিতে হবে এবং তাকে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।”
বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই দেশনেত্রীকে তিলে তিলে নিঃশেষ করা হয়েছে। আমানউল্লাহ আমানের এই বক্তব্য দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর মনের কথারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আপসহীন নেত্রী ও জনতার ঢল
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত। আমানউল্লাহ আমান তার বক্তব্যে এই উপাধির যথার্থতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দিন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি যে আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন, তার নামের পাশে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিটি তারই প্রমাণ।”
প্রয়াত এই নেত্রীর জানাজায় মানুষের উপস্থিতির কথা স্মরণ করে আমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি উল্লেখ করেন, জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বেগম খালেদা জিয়া কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।
আমান আরও যোগ করেন, “আজকে তার জানাজায় জনতার যে ঢল, তার প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা তা প্রমাণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা।”
শোক ও ক্ষোভের মিশেল
জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়ার পাশাপাশি ছিল তীব্র ক্ষোভ। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনা এবং তাকে ‘হত্যা’র অভিযোগ সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমানউল্লাহ আমানের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং আমানউল্লাহ আমানের এই অভিযোগ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দল হিসেবে বিএনপি এই ইস্যুটিকে নিয়ে ভবিষ্যতে কী কর্মসূচি গ্রহণ করে।








