তারাবির নামাজ ইসলামের অন্যতম বিশেষ ইবাদত, যা পবিত্র রমজান মাসে রাতের বেলা জামাতে বা একাকী আদায় করা হয়। এই নামাজ মুসলমানদের জন্য এক বিরাট আধ্যাত্মিক সংযোগের সুযোগ এনে দেয়। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পাশাপাশি রাতের এই নামাজ মুমিনদের মনে প্রশান্তি ও আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়।
এই তারাবির নামাজ হলো নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ইশার ফরজ নামাজের পর এই নামাজ আদায় করা হয়। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ, গুনাহ মাফ এবং অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের আশায় মুসলিমরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই নামাজে শরিক হন। তারাবির নামাজের প্রতিটি ধাপে রয়েছে সুন্নাহ সমর্থিত নিয়মকানুন, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই গাইডে আপনি তারাবির নামাজের গুরুত্ব, রাকাত সংখ্যা, জামাতে ও একাকী আদায়ের পদ্ধতি এবং মহিলাদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তারাবির নামাজ কী ও কেন আদায় করা হয়
‘তারাবিহ’ শব্দটি আরবি ‘তারবিহা’ শব্দের বহুবচন, যার আভিধানিক অর্থ হলো বিশ্রাম বা স্বস্তি নেওয়া। যেহেতু প্রতি চার রাকাত নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন, তাই এই নামাজকে ‘তারাবিহ’ বা তারাবির নামাজ বলা হয়।
মূলত, তারাবির নামাজ হলো পবিত্র রমজান মাসে ইশার নামাজের পর জামাতে বা একাকী আদায়কৃত একটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত) নামাজ।
- কেন আদায় করা হয়? এটি বিশেষত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত, যা রমজানের ফজিলত ও বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। এর প্রধান কারণ হলো:
- আল্লাহর নৈকট্য লাভ।
- পূর্বের গুনাহ মাফ করানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম (তারাবির নামাজ) করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
- রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও পূর্ণতা দান করা।
রমজানে তারাবির গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাসের সঙ্গে তারাবির নামাজের গুরুত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
- সুন্নাতে মুয়াক্কাদা: এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়।
- গুনাহ মাফ: তারাবির নামাজ আদায়কারীর জন্য ক্ষমা বা মাগফিরাতের ওয়াদা রয়েছে।
- নফল ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি: রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তারাবির মাধ্যমে এই সওয়াব লাভের সুযোগ পাওয়া যায়।
- ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব: মসজিদে জামাতে তারাবি আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।
তারাবির নামাজের নিয়ম ধাপে ধাপে
এই তারাবির নামাজ আদায় করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
তারাবির নামাজ কয় রাকাত?
হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ আলেম ও মুসলিমদের সর্বসম্মত মত হলো, তারাবির নামাজ বিশ (২০) রাকাত। ২০ রাকাত তারাবির পর তিন (৩) রাকাত বিতর নামাজ আদায় করা হয়। অর্থাৎ, মোট ২৩ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়।
- তারাবির ২০ রাকাত দুই দুই রাকাত করে মোট ১০ সালামে পড়া হয়।
তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয়?
তারাবির নামাজ নফলের নিয়তে দুই রাকাত করে আদায় করা হয়।
১. নিয়ত করা: প্রথমে দুই রাকাত তারাবির নামাজের নিয়ত করতে হবে।
আরবিতে: “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তা‘আলা রাক‘আতাই সালাতুত তারাবিহ্ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা‘আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা‘বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।”
বাংলায়: “আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে দুই রাকাত তারাবির সুন্নাত নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।” (যদি জামাতে হয়, তবে ‘ইমামের পিছনে’ কথাটি যোগ করতে হবে)।
২. সাধারণ দুই রাকাত নামাজের মতো আদায়: স্বাভাবিক দুই রাকাত নফল নামাজের মতো প্রতিটি রাকাত আদায় করতে হবে।
৩. বিশ্রাম (তারবিহা): প্রতি চার রাকাত (দুই সালাম) শেষে একটু বিশ্রাম নেওয়া সুন্নাত। এই সময় মুসল্লিরা দরুদ, দোয়া বা তাসবিহ পাঠ করেন। অনেকে তারাবির বিশেষ তাসবিহ (যা নিচে দেওয়া হয়েছে) পাঠ করে থাকেন।
ইশার ফরজের পরে তারাবি পড়ার নিয়ম
তারাবির নামাজের সময় শুরু হয় ইশার ফরজ নামাজের পর।
১. প্রথমে ইশার চার রাকাত ফরজ এবং দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করতে হবে।
২. এরপর দুই দুই রাকাত করে তারাবির ২০ রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে।
৩. তারাবির ২০ রাকাত শেষে সবশেষে তিন রাকাত বিতরের ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে হয়।
তারাবির নামাজ একা পড়ার নিয়ম
কোনো কারণে যদি কেউ মসজিদে জামাতে শরিক হতে না পারেন, তবে তিনি ঘরে একাকী তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন।
একা পড়লে কত রাকাত ও কীভাবে পড়তে হবে
একা পড়লেও তারাবির নামাজ বিশ (২০) রাকাত আদায় করা সুন্নাত।
- পদ্ধতি: জামাতের মতোই দুই রাকাত করে নিয়ত করে মোট ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ শেষ করতে হবে।
- একাকী নামাজ পড়লে ক্বিরাত (কুরআন তিলাওয়াত) নীরবেও পড়া যায়, তবে সশব্দে পড়া উত্তম।
ঘরে তারাবির নামাজ আদায়ের বিধান
ঘরে তারাবি আদায় করা বৈধ ও জায়েজ, তবে শরয়ী কোনো কারণ ছাড়া মসজিদের জামাত থেকে বিরত থাকা অনুচিত। বিশেষত মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ পড়া উত্তম।
বিঃ দ্রঃ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, জামাতে তারাবি আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ‘আলা ক্বিফায়া’ (কিছু সংখ্যক আদায় করলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়)। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে জামাতে পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ‘আলা আইন’ (প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আবশ্যক)।
তারাবির নামাজ জামাতে পড়ার নিয়ম
মসজিদে জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম ও সুন্নাত সম্মত পদ্ধতি।
ইমামতিতে তারাবির আদব ও শিষ্টাচার
- কুরআন খতম: তারাবির নামাজে পুরো রমজান মাসে একবার সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত (খতম) করা সুন্নাত। ইমাম সাহেবকে এর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
- ধৈর্য ও মধ্যপন্থা: ইমামের উচিত এমনভাবে তিলাওয়াত করা, যাতে মুসল্লিদের কষ্ট না হয়। তাড়াহুড়ো করে অতিরিক্ত দ্রুত পড়া উচিত নয়। রুকু-সিজদাহ ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে।
- তারবিহার বিরতি: প্রতি চার রাকাত শেষে মুসল্লিদের জন্য সামান্য বিরতি দেওয়া (তারবিহা) ইমামের দায়িত্ব।
মসজিদে তারাবি পড়ার সাধারণ নিয়ম
- ইশার ফরজ ও সুন্নাত শেষে মুসল্লিরা জামাতে তারাবির নামাজে দাঁড়ান।
- ইমাম সাহেব দুই রাকাতের নিয়ত করে নামাজ শুরু করেন এবং মুক্তাদিরা ইমামের অনুসরণ করেন।
- প্রতি দুই রাকাত পর পর সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ হয় এবং নতুন করে দুই রাকাতের জন্য নিয়ত করা হয়।
- ২০ রাকাত শেষে বিতর নামাজ জামাতে আদায় করা হয়।
তারাবির নামাজের দোয়া
তারাবির নামাজে কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক দোয়া নেই। তবে চার রাকাত পর পর বিশ্রামের সময় কিছু দোয়া বা তাসবিহ পাঠ করা উত্তম।
কোন দোয়া পড়া উত্তম
তারবিহার বিরতিতে সাধারণত যে তাসবিহটি পড়া হয়, তা হলো:
‘সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকূত, সুবহানা যিল ইয্যতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল ক্বুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামূতু আবাদান আবাদা। সুব্বূহুন ক্কুদ্দূসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু নাসতাগফিরুল্লাহ, নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া না‘ঊযু বিকা মিনান্নার।’
এছাড়াও এই সময় দরুদে ইব্রাহিম বা অন্যান্য সহজ মাসনূন দোয়া পড়া যায়। অনেকে নীরবে বসেও বিশ্রাম নিতে পারেন।
বিতর নামাজের কুনুত ও তার নিয়ম
তারাবির পর তিন রাকাত বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিতর নামাজের শেষ রাকাতে রুকুর আগে দোয়া কুনুত পাঠ করা হয়।
১. তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে কান পর্যন্ত হাত তুলে আবার নাভির নিচে বাঁধতে হয়।
২. এরপর দোয়া কুনুত পাঠ করতে হয়।
৩. দোয়া কুনুত মনে না থাকলে সাময়িকভাবে এর পরিবর্তে তিনবার ‘রাব্বিগ্ ফিরলি’ বা ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ইয়া গাফফার’ অথবা এর পরিবর্তে তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করা যায়। যত দ্রুত সম্ভব দোয়া কুনুত মুখস্থ করে নিতে হবে।
তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের
মহিলাদের জন্য তারাবির নামাজ পুরুষদের থেকে ভিন্নভাবে আদায় করতে হয় না, তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে:
- ঘরে তারাবি পড়া: মহিলাদের জন্য মসজিদে না গিয়ে ঘরে একাকী বা নিজেদের মধ্যে জামাত করে তারাবির নামাজ আদায় করা উত্তম ও অধিক সওয়াবের কাজ।
- জামাতে অংশগ্রহণের বিধান: শরীয়তের পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে মহিলারা মসজিদে তারাবির জামাতেও অংশ নিতে পারেন, তবে ইমামের পিছনে পুরুষদের কাতার থেকে দূরে নিজেদের জন্য নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াতে হবে।
- রাকাত সংখ্যা: পুরুষদের মতোই মহিলারাও বিশ (২০) রাকাত তারাবির নামাজ এবং তিন (৩) রাকাত বিতর নামাজ আদায় করবেন।
তারাবির নামাজের সময়সীমা
ইশার নামাজ থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত
তারাবির নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট সময় হলো:
- শুরু: ইশার নামাজের ফরজ ও সুন্নাত শেষ হওয়ার পর।
- শেষ: সুবহে সাদিক (ফজরের নামাজের ওয়াক্ত) শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
অর্থাৎ, ইশার নামাজ আদায় করে মধ্যরাত বা রাতের যেকোনো সময় তারাবি আদায় করা যায়। তবে সাধারণত ইশার পর পরই মসজিদে জামাতে আদায় করা হয়।
তারাবির নামাজে সাধারণ ভুল ও সংশোধন
তারাবির নামাজ দ্রুততার সাথে আদায় করতে গিয়ে কিছু ভুল হতে পারে, যা সংশোধন করা জরুরি।
দ্রুত পড়া
তারাবির নামাজকে দ্রুত শেষ করার প্রবণতা দেখা যায়, যাতে নামাজের রুকনগুলো (যেমন: রুকু, সিজদাহ, ক্বওমা ও জালসা) সঠিকভাবে আদায় হয় না।
- সংশোধন: প্রতিটি রুকন (দাঁড়ানো, রুকু, সিজদাহ) ধীরস্থিরভাবে ও প্রশান্তির সাথে আদায় করা আবশ্যক। রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পাঠ করা উচিত।
নিয়ম না মানা
অনেকে তারাবির ২০ রাকাতের পরিবর্তে কম রাকাত পড়ে থাকেন বা বিতর নামাজ বাদ দেন।
- সংশোধন: সুন্নাহসম্মতভাবে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর নামাজ আদায় করা উচিত। ২০ রাকাতের কম পড়লে তারাবির সুন্নাত পূর্ণরূপে আদায় হয় না।
বিতর নামাজ বাদ দেওয়া
তারাবির পর বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। অনেকে তাড়াহুড়ো করে বিতর নামাজ বাদ দিয়ে দেন।
- সংশোধন: বিতর নামাজ অবশ্যই পড়তে হবে। এটি ওয়াজিব (প্রায় ফরজের কাছাকাছি) ইবাদত, যা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া মারাত্মক গুনাহের কারণ হতে পারে।
এই তারাবির নামাজ পবিত্র রমজানের বরকতময় রাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল। ২০ রাকাত তারাবির মাধ্যমে মাসব্যাপী কিয়ামুল লাইল বা রাতের ইবাদত করা হয়, যা মুমিনকে আল্লাহর রহমতের কাছাকাছি নিয়ে যায়। জামাতে হোক বা একাকী, প্রতিটি মুসলমানের উচিত তারাবির নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে সঠিকভাবে তা আদায় করা এবং এর মাধ্যমে রমজানের অফুরন্ত ফজিলত অর্জন করা।
তারাবির নামাজ সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি?
উত্তর: তারাবির নামাজ হলো পবিত্র রমজান মাসে ইশার নামাজের পর আদায়কৃত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত) নামাজ।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কয় রাকাত?
উত্তর: সুন্নাহসম্মতভাবে তারাবির নামাজ বিশ (২০) রাকাত। এর সাথে তিন (৩) রাকাত বিতর নামাজ আদায় করতে হয়।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজের সময় কখন শুরু হয়?
উত্তর: ইশার নামাজের ফরজ ও সুন্নাত শেষ হওয়ার পর তারাবির নামাজের সময় শুরু হয় এবং সুবহে সাদিক (ফজরের ওয়াক্ত শুরু) হওয়ার আগ পর্যন্ত চলে।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি একা পড়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, শরয়ী ওজর থাকলে বা মসজিদে যেতে না পারলে তারাবির নামাজ ঘরে একাকী আদায় করা যায়।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজে বিতর কি ওয়াজিব?
উত্তর: হ্যাঁ, তারাবির পর তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়া হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ওয়াজিব (প্রায় বাধ্যতামূলক)।
প্রশ্ন: তারাবি না পড়লে কি গুনাহ হবে?
উত্তর: তারাবির নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় এবং বড় ধরণের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
প্রশ্ন: মহিলাদের তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম কী?
উত্তর: মহিলাদের জন্য ঘরেই তারাবির নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা উত্তম। মসজিদে পর্দা মেনে জামাতেও অংশ নিতে পারেন।
প্রশ্ন: বিতর নামাজে দোয়া কুনুত ভুলে গেলে কী করব?
উত্তর: দোয়া কুনুত ভুলে গেলে সাময়িকভাবে তিনবার ‘রাব্বিগ্ ফিরলি’ বা তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করা যায়।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজে দ্রুত পড়া কি ঠিক?
উত্তর: না, দ্রুত পড়া ঠিক নয়। নামাজে রুকু, সিজদাহ এবং অন্য রুকনগুলো ধীরস্থিরভাবে ও প্রশান্তির সাথে আদায় করা আবশ্যক।
প্রশ্ন: তারাবির নামাজ কি প্রতি চার রাকাত পর নিয়তে পরিবর্তন করতে হয়?
উত্তর: তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে নিয়ত করে মোট ১০ সালামে ২০ রাকাত আদায় করা হয়। অর্থাৎ, প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে আবার নতুন করে দুই রাকাতের জন্য নিয়ত করতে হয়।
নিচে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নামাজের নিয়ম দেয়া হলো
- ফজর নামাজের সময়: কখন শুরু, কখন শেষ সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ও ইসলামিক গাইড
- সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম, ফজিলত ও আদায়ের সহজ পদ্ধতি
- ফজর নামাজের নিয়ম ও দোয়া: দিনের সূচনা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে
- বেতের নামাজের নিয়ম, সূরা, নিয়ত ও ফজিলত পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- মেয়েদের নামাজের নিয়ম: ইসলামের আলোকে সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- শবে বরাত নামাজের নিয়ম, আমল ও বর্জনীয় কাজের ইসলামী নির্দেশনা
- শবে কদর নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ইসলামী নির্দেশনা: হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রাত
- নামাজের নিষিদ্ধ সময়: কখন নামাজ পড়া যাবে না পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক গাইডলাইন
- জানাজার নামাজের নিয়ম: নবী করীম (সা.)-এর নির্দেশিত পূর্ণাজ্ঞ নিয়মাবলি








