হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনরিযিক বৃদ্ধির দোয়া ও আমল: ইসলামের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
spot_img

রিযিক বৃদ্ধির দোয়া ও আমল: ইসলামের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

রিযিক মানব জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, জ্ঞান এবং নিরাপত্তা, জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনই আল্লাহর তরফ থেকে নির্ধারিত রিযিক-এর অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীতে মানুষ যে পরিমাণ পরিশ্রমই করুক না কেন, তার নির্ধারিত রিযিক তার কাছে পৌঁছাবেই। তবে, ইসলাম একজন মুমিনকে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে শেখায়নি, বরং বরকতপূর্ণ ও প্রশস্ত রিযিকের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া এবং আমল পালনের নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশিকাটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রিযিক বৃদ্ধির ইসলামিক ধারণা, দোয়া ও আমলের একটি পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা প্রদান করবে।

রিযিক বৃদ্ধি সম্পর্কিত ইসলামিক ধারণা

আল্লাহর রিযিকের নিয়ন্ত্রণ

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হলো, আল্লাহই একমাত্র রিযিকদাতা। এই বিশ্বাস অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের ভিত্তি।

  • তাওহীদ ও রিযিক: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের রিজিক দান করেন এবং তিনিই সকল কিছুর মালিক। কুরআন মজীদে আল্লাহ ঘোষণা করেন:
    “নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই সকল প্রকার রিযিকদাতা, শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী।” (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:৫৮)
  • তাকদীরের ওপর ঈমান: প্রতিটি মানুষের জন্য রিযিক নির্দিষ্ট করা আছে, যা তার মৃত্যু পর্যন্ত তাকে প্রদান করা হবে। নবী করীম (সা.) বলেছেন: “কোনো প্রাণীই তার জীবনের শেষ রুটি শেষ না করা পর্যন্ত মারা যাবে না, যদিও সে তা অন্য কারো কাছ থেকে গ্রহণ করে।” (সহীহ বুখারী)

রিযিক বৃদ্ধির জন্য নৈতিক ও আচরণগত দিক

শুধু দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, এর সাথে জড়িত থাকতে হবে নৈতিকতা ও সঠিক আচরণ।

  • আল্লাহভীতি (তাকওয়া): আল্লাহভীরুতার মাধ্যমে আল্লাহ রিযিকের দরজা খুলে দেন।
    “আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।” (সূরা আত-তালাক, আয়াত ২-৩)
  • আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা): পরিপূর্ণ ভরসা রাখা। নবী (সা.) বলেছেন:
    “তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ভরসা রাখতে, তবে তিনি পাখিদের যেভাবে রিজিক দেন, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দিতেন। পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরা অবস্থায় ফিরে আসে।” (তিরমিযী, হাদীস: ২/৬৩৪)
  • ধৈর্য ও শোকর: প্রাপ্তির ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (শোকর) করলে বৃদ্ধি পায় এবং অভাবের সময় ধৈর্য ধারণ করলে পরীক্ষা সহজ হয়।
    “যদি তোমরা শোকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের রিযিক আরো বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আযাব বড়ই কঠিন।” (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৭)

রিযিক বৃদ্ধির দোয়া

দোয়া হলো বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম। রিযিকের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দোয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) শিখিয়ে গেছেন।

দৈনন্দিন দোয়া

  • গুনাহ মাফ ও রিযিক বৃদ্ধির সাধারণ দোয়া: এই দোয়াটি ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রশস্ত রিযিকের জন্য সমন্বিত।


আরবি : اللهم اغفر لي ذنبي وَوَسَحُ لِي فِي رِزْقِي وَبَارِك لي فيما رَزَقْتَنِي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি রিযকি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে জীবিকা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে রাতে উল্লিখিত দোয়া পাঠ করতে শোনেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫০০)

মসজিদে প্রবেশের দোয়া

 আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللهُمَّ افْتَحْ لِى أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রহমাতিক। 

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, দরুদ ও শান্তি আল্লাহর রসুলের ওপর বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া


উচ্চারণ: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك، اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক, আল্লাহুম্মা সিমনি মিনাশ শয়তানির রজিম।

বিশেষ সময়ে দোয়া

  • সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ: কিছু দোয়া আছে যা নিয়মিত পাঠ করলে বরকত আসে। যেমন: আয়াতুল কুরসী, সূরাতুল ইখলাস, সূরাতুল ফালাক
  • অভাব দূর করার বিশেষ জিকির: ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই)

রিযিক বৃদ্ধির আমল

আমল বলতে এখানে ইবাদত, অভ্যাস ও কর্মপন্থা বোঝানো হয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

তওবা-ইস্তিগফার করা

তওবা-ইস্তিগফার করার মাধ্যমে বান্দার রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান করবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২; সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৮২)

আল্লার ওপর ভরসা রাখা

যেসব কাজকর্ম বা আমলে রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে; তার মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করা এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না।’ (সুরা সাদ, আয়াত: ৩৫)

হজ-ওমরাহ পালন

বারবার হজ ও ওমরাহ পালন করার দ্বারা রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে। এটাও এক রকম রিযিক বৃদ্ধির দোয়া আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-র বিবরণে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা লাগাতার হজ ও ওমরাহ পালন করতে থাকো। কারণ, এর দ্বারা এমনভাবে অভাব ও গুনাহ দূরীভূত হয়; যেমনভাবে কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৮১০; নাসায়ি, হাদিস: ২,৬৩১)

হিজরত করা এবং জিহাদে অংশ নেওয়া

আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় হিজরত করা ও জিহাদে অংশগ্রহণ করার দ্বারা রিজিকে বরকত হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ-তায়ালার রাস্তায় হিজরত করবে; সে জমিনে বহু আশ্রয়স্থল ও সচ্ছলতা পাবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০০)

সময়মতো নামাজ আদায়

সময়মতো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে রিজিক বাড়ে। নামাজ আদায় করার ফাঁকে ফাঁকে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে, কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করার ফাঁকে ফাঁকে নামাজ নয়। একই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত পালনে নিজেকে ঝামেলামুক্ত করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর আপনি পরিবার-পরিজনকে নামাজ আদায়ের আদেশ দিন এবং নিজেও তার ওপর অটল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই আপনাকে রিজিক দিই। আর মুত্তাকিদের জন্যই শুভ পরিণাম।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২)

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম আরেকটি আমল হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করতে এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬; সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৬)

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় এবং দান-সদকা করা

দান-সদকা করার মাধ্যমে রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো; তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৯)

বিয়ে করা

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, আল্লাহ-তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। কারণ, আল্লাহ-তায়ালা প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নূর, আয়াত: ৩২)

হালাল এবং বরকতযুক্ত জীবনের টিপস

  • হালাল উপার্জন: উপার্জনের উৎস যেন ১০০% হালাল হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা।
  • দান ও সাদকা: সাদকা ধন কমায় না, বরং বৃদ্ধি করে।
    নবী (সা.) বলেছেন: “সাদকা কখনো সম্পদ কমায় না।” (মুসলিম)
  • কুরআন তিলাওয়াত: বিশেষত সূরা আল-ওয়াক্বি’আ পাঠ করা রিযিক বৃদ্ধির বরকতময় আমল হিসেবে পরিচিত।

রিযিক বৃদ্ধি সংক্রান্ত সাধারণ ভুল ধারণা

  • ভুল ধারণা: শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমই রিযিকের নিশ্চয়তা দেয়।
    • ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি: পরিশ্রম করা ফরয, কিন্তু রিযিকদাতা আল্লাহ। পরিশ্রমের সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং দোয়া অপরিহার্য।
  • ভুল ধারণা: বেশি বেশি টাকা জমানোই সচ্ছলতা।
    • ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি: বরকতই আসল সচ্ছলতা। অল্প অর্থেও বরকত থাকলে তা যথেষ্ট, কিন্তু অনেক বেশি সম্পদ বরকতশূন্য হলে তা কষ্টের কারণ হতে পারে।
  • ভুল ধারণা: নির্দিষ্ট কোনো বস্তু বা আমল জাদু বা মন্ত্রের মতো কাজ করে।
    • ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি: সকল ভালো-মন্দ আল্লাহর ইচ্ছেনুযায়ী ঘটে। আমলগুলো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার মাধ্যম, কোনো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র নয়।

এই রিযিক বৃদ্ধি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর বিধান, বান্দার চেষ্টা এবং আন্তরিক ইবাদতের সমন্বিত ফল। তাকওয়া, ইস্তিগফার, সময়মতো নামাজ এবং হালাল উপার্জনের পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত দোয়া ও আমলগুলো নিয়মিত জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে, একজন মুমিন দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশস্ত ও বরকতপূর্ণ রিযিক লাভে সক্ষম হবে।

রিযিক বৃদ্ধির দোয়া ও আমল সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: রিযিক কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: রিযিক হলো আল্লাহর প্রদত্ত জীবিকা। এতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, জ্ঞান ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত। এটি মানব জীবনের এক অপরিহার্য অংশ এবং আল্লাহই একমাত্র রিযিকদাতা।

প্রশ্ন: কি কারণে রিযিক বৃদ্ধি পায়?

উত্তর: রিযিক বৃদ্ধি পায় তাকওয়া, ইস্তিগফার, দোয়া, নামাজ, হালাল উপার্জন, আত্মীয়তা রক্ষা এবং দান-সদকার মাধ্যমে। আল্লাহর প্রতি ভরসা ও শোকর পালনও রিযিক বৃদ্ধির কারণ।

প্রশ্ন: রিযিকের জন্য কোন রিযিক বৃদ্ধির দোয়া সবচেয়ে কার্যকর?

উত্তর: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللهُمَّ افْتَحْ لِى أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ দোয়াটি ক্ষমা ও প্রশস্ত রিযিকের জন্য প্রিয়।

প্রশ্ন: মসজিদে প্রবেশের সময় কোন দোয়া করা উচিত?

উত্তর: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللهُمَّ افْتَحْ لِى أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ অর্থ: হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।

প্রশ্ন: মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া কি?

উত্তর: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك، اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার কাছে প্রার্থনা করি এবং শয়তানের প্রতিরোধ করুন।

প্রশ্ন: দৈনন্দিন কোন জিকির রিযিক বৃদ্ধি করে?

উত্তর: নিয়মিত “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” জিকির করলে রিযিক বরকতপূর্ণ হয়। অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

প্রশ্ন: রিযিক বৃদ্ধির জন্য নামাজের ভূমিকা কী?

উত্তর: সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করা রিযিক বৃদ্ধি করে। নামাজই বান্দার রিজিকের মূল মাধ্যম।

প্রশ্ন: হালাল উপার্জনের গুরুত্ব কী?

উত্তর: হালাল উপার্জন রিযিকের বরকত ধরে রাখে। ১০০% হালাল আয় হওয়া নিশ্চিত করা আবশ্যক।

প্রশ্ন: দান-সদকার মাধ্যমে রিযিক কিভাবে বৃদ্ধি পায়?

উত্তর: আল্লাহ বলেন, ‘যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে, তিনিই প্রতিদান দেবেন।’ সুতরাং দান-সদকা ধন কমায় না বরং বৃদ্ধি করে।

প্রশ্ন: আত্মীয়তার সঙ্গে সুসম্পর্কের গুরুত্ব কী?

উত্তর: আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করলে আল্লাহ রিযিক বৃদ্ধির পথ খোলে। সম্পর্ক বজায় রাখা বরকতের অংশ।

প্রশ্ন: হজ ও ওমরাহর রিযিকে প্রভাব কী?

উত্তর: বারবার হজ ও ওমরাহ পালন করলে অভাব দূর হয় এবং রিজিক বরকতপূর্ণ হয়। এটি গুনাহ থেকে মুক্তি এবং বরকত লাভের মাধ্যম।

প্রশ্ন: রিযিক বৃদ্ধিতে তাকওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: আল্লাহ ভীরু বান্দাদের জন্য রিযিকের দরজা খুলেন। তাকওয়া মানে আল্লাহকে ভয় করা এবং নিয়মিত ইবাদত পালন করা।

প্রশ্ন: তওবা ও ইস্তিগফারের প্রভাব কী?

উত্তর: সৎভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করলে আল্লাহ কৃপা বর্ষণ করেন, যা রিযিক বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

প্রশ্ন: হিজরত বা জিহাদে অংশ নেওয়ার রিযিক প্রভাব কী?

উত্তর: আল্লাহর পথে হিজরত বা জিহাদ করলে আল্লাহ জমিনে আশ্রয় এবং সচ্ছলতা প্রদান করেন, যা রিজিক বৃদ্ধি করে।

প্রশ্ন: শোকর ও ধৈর্যের প্রভাব কী?

উত্তর: প্রাপ্তির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা (শোকর) এবং অভাবের সময় ধৈর্যধারণ করলে আল্লাহ রিযিক বাড়ান। এটি পরীক্ষার সময় সাহায্য করে।

প্রশ্ন: কোন ভুল ধারণা মানুষ রিযিক বৃদ্ধির ব্যাপারে করে?

উত্তর: শুধু কঠোর পরিশ্রম রিযিক নিশ্চিত করে না। প্রকৃত রিযিক আল্লাহর ইচ্ছায় এবং চেষ্টা ও ইবাদতের ফল।

প্রশ্ন: বরকতপূর্ণ জীবন মানে কী?

উত্তর: প্রচুর অর্থ নয়, বরকতপূর্ণ আয়ই প্রকৃত সচ্ছলতা। অল্প অর্থ হলেও বরকত থাকলে জীবন সহজ হয়।

প্রশ্ন: কোন বিশেষ সূরা রিযিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?

উত্তর: সূরা আল-ওয়াক্বি’আ, আয়াতুল কুরসী, সূরাতুল ইখলাস, সূরাতুল ফালাক নিয়মিত পাঠ করলে বরকত আসে।

প্রশ্ন: নবীজির রিযিক বৃদ্ধির দোয়া রিযিক বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর?

উত্তর: নবীজির শিখানো দোয়া ও আমল আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মাধ্যম। নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশস্ত রিযিক লাভ সম্ভব।

প্রশ্ন: রিযিক বৃদ্ধির মূল সূত্র কী?

উত্তর: তাকওয়া, তাওয়াক্কুল, তওবা-ইস্তিগফার, নামাজ, হালাল উপার্জন, দান-সদকা, আত্মীয়তার রক্ষা এবং নবীজির দোয়া নিয়মিত পালন করা।

নিচে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া দেয়া হলো

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!