প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা শহিদুল আলম এবং গাজার পাশে আছি।” শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই বার্তা দেন।
ড. ইউনূস লিখেছেন, “আমরা ঘনিষ্ঠভাবে লক্ষ্য রাখছি গাজার উদ্দেশে ঐতিহাসিক নৌযাত্রায় অংশ নেওয়া আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমের নিরাপত্তা ও অবস্থার ওপর।”
তিনি বলেন, “শহিদুল আলম এই মিশনে অংশ নিয়েছেন সাহস, দৃঢ়তা ও মানবতার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে, যেমন তিনি দেখিয়েছিলেন ২০১৮ সালে হাসিনা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সময়, যখন তাঁকে ১০৭ দিন কারাভোগ করতে হয়েছিল।”
ড. ইউনূসের ভাষায়, “শহিদুল আজ বাংলাদেশের অদম্য চেতনা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।”
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. ইউনূস আরও বলেন, “বিশ্ব আজ এক গভীর সংকটে আছে। মানব কষ্টের প্রতি যে উদাসীনতা আমরা দেখছি, তা আমাদের সভ্যতার অর্জনকে নষ্ট করছে। গাজায় শিশুরা অনাহারে মরছে, সাধারণ মানুষ নির্বিচারে নিহত হচ্ছে, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মানবতার প্রতি এই অবহেলা বন্ধ হওয়া উচিত। শান্তি, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনতে এখনই সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”
বার্তার শেষে ড. ইউনূস দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, আমরা গাজার পাশে আছি, এখন এবং সব সময়।”
ড. ইউনূসের এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাঁর মানবিক অবস্থান ও সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, শহিদুল আলম বর্তমানে গাজা অভিমুখী একটি আন্তর্জাতিক মানবিক নৌযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। এই মিশনের লক্ষ্য হলো গাজায় অবরুদ্ধ মানুষদের কাছে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
বাংলাদেশের দুই সাহসী কণ্ঠ, ড. ইউনূস ও শহিদুল আলম, পৃথিবীর কাছে আবারও মানবতার পক্ষে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে তুলেছেন।








