ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের আদলে ও একই নামে একটি সুবিশাল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর এই অনন্য মসজিদটির পাশাপাশি একটি আধুনিক কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বৃহৎ পরিসরে ‘মসজিদ-মাদ্রাসা কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক স্মৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আধুনিক ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে উদ্যোক্তারা এই বিশাল উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সহযোগিতা ও অনুদান আহ্বান করা হয়েছে।
মোগল স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক নকশার নান্দনিক সমন্বয়
প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের মূল গম্বুজ, মিনারসহ স্থাপত্যের প্রতিটি অংশে ঐতিহ্যবাহী মোগল স্থাপত্যশৈলীর অসামান্য ছাপ থাকবে।
এর পাশাপাশি নান্দনিকতা বাড়াতে এবং স্থান সংকুলানের সুবিধা বিবেচনা করে এর সঙ্গে আধুনিক ইসলামী স্থাপত্যকলা ও আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার সমন্বয় ঘটানোর রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূল মসজিদের সুবিশাল প্রাঙ্গণ ছাড়াও এই কমপ্লেক্সে থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কওমি মাদ্রাসা ভবন।
কওমি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে কমপ্লেক্সের যাত্রা
কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায় গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়া’ নামের একটি সুপরিচিত কওমি মাদ্রাসা। মূলত এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই বিশাল আয়তনের জমিতে বৃহৎ পরিসরে নতুন মসজিদ-মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণের মূল মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও স্থবিরতার পর পুনরায় সচল
এই মেগা প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। উদ্যোক্তারা জানান:
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কলাতিয়ায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন সর্বমান্য আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহি.)।
- সাময়িক স্থবিরতা: পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর কেন্দ্রিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিশেষ পে প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির স্বাভাবিক অগ্রগতির কাজ থমকে যায়।
- পুনরায় কাজের সূচনা: দীর্ঘ বিরতির পর জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি পুনরায় নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকার বিশাল মাটি ভরাটের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি যাতায়াত সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ সংযোগ সড়ক।
অনুদান পাঠাবেন যেভাবে
প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে মূল ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে নিতে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিকাশ, নগদ, ওয়েবসাইট ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অনুদান পাঠানোর মাধ্যমগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
- অনলাইন পোর্টাল: সরাসরি অনলাইনে সহযোগিতা পাঠাতে ওয়েবসাইটে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
- বিকাশ ও নগদ নম্বর: যেকোনো স্থান থেকে বিকাশ ও নগদের পার্সোনাল নম্বর
01737241621-এ অনুদান পাঠানো যাবে। - ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য:
- হিসাবের নাম (Account Name): Babri Masjid Dhaka
- অ্যাকাউন্ট নম্বর (A/C No): 20506640200295607
- ব্যাংকের নাম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (কলাতিয়া বাজার সাব-শাখা, ঢাকা)।
অনুদানসংক্রান্ত যেকোনো সঠিক তথ্য ও খবরাখবরের জন্য উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর 01339-491061-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের আদলে নির্মিত হতে যাওয়া এই কমপ্লেক্সটি শেষ হলে তা ঢাকার ধর্মীয় স্থাপত্যের তালিকায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষা, গুণগত শিক্ষা প্রসার এবং ইবাদতের স্থান হিসেবে এই উদ্যোগটি দেশের মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।








