দেশের তৃণমূল পর্যায় ও গ্রামে-গঞ্জের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা লুকানো মেধা ও বৈচিত্র্যময় প্রতিভাকে জাতীয় ও বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরতে এক বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন জাতীয় টিভি রিয়েলিটি শো ‘প্রতিভার সন্ধানে’।
প্রচলিত নাচ, গান কিংবা কমেডি শোর গণ্ডি পেরিয়ে এবার সব ধরনের অনন্য মেধার সমন্বয়ে একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কী কী প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে?
যেকোনো ভিন্নধর্মী ও অসামান্য মেধার অধিকারী এই মঞ্চে পারফর্ম করতে পারবেন। প্রচলিত শিল্পের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যাবে এই শোতে।
যেমন,
- ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প: লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, বহুরূপী ইত্যাদির মতো হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি।
- শারীরিক কসরত ও আর্ট: অ্যাক্রোবেটিক্স, অসামান্য শারীরিক কসরত, জাদুবিদ্যা এবং স্যান্ড আর্ট।
- আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন: রোবটিক্স, ড্রোন শো এবং নতুন প্রযুক্তির নানাবিধ উদ্ভাবনী প্রতিভা।
আয়োজনের সময়সীমা, পর্ব ও সম্প্রচার মাধ্যম
এই রিয়েলিটি শোটির ফরম্যাট এবং মান তৈরি করা হচ্ছে ‘ব্রিটেনস গট ট্যালেন্ট’-এর মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শোর আদলে।
- পর্ব সংখ্যা ও ব্যাপ্তি: শোটি মোট ৫২ পর্বে গঠিত হবে এবং এটি ১ বছর মেয়াদি এক বিশাল প্রজেক্ট। প্রতিটি পর্বের ব্যাপ্তি থাকবে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট।
- সম্প্রচার: এটি একই সঙ্গে বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) এবং জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হবে।
- প্রযোজনা শৈলী: আন্তর্জাতিক মানের প্রিমিয়াম সেট, আলো এবং সিনেমাটিক ব্যাকস্টোরি ব্যবহার করা হবে, যা প্রতিযোগীদের পেছনের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরবে।
রেজিস্ট্রেশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
প্রতিযোগীদের অডিশন থেকে শুরু করে বিজয়ী নির্ধারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করা হয়েছে।
১. ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন: ঘরে বসেই অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে হবে।
২. বিভাগীয় অডিশন ক্যাম্প: দেশের ৮টি বিভাগে সরাসরি বিচারকদের উপস্থিতিতে ‘বিভাগীয় অডিশন ক্যাম্প’ পরিচালনা করে সেরা মেধাবীদের বাছাই করা হবে।
৩. স্টুডিও ও নকআউট রাউন্ড: মূল স্টুডিওতে প্রতিযোগিতা, নকআউট পর্ব এবং সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
৪. গ্র্যান্ড ফিনালে: বিচারকদের মূল্যায়নের পাশাপাশি পাবলিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি দর্শকের ভোটে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।
বিচারক ও উপস্থাপক: শোটিতে দেশের সংগীত, নৃত্য ও অভিনয় জগতের ৩ জন কিংবদন্তি তারকা মূল বিচারক হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি ব্যাকস্টেজের গল্প ফুটিয়ে তুলতে থাকবেন ২ জন জনপ্রিয় উপস্থাপক।
কেন এই শো আয়োজন করা হচ্ছে?
বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, এফডিসি দীর্ঘকাল ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করলেও বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে প্রান্তিক মেধাগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা জরুরি। উপযুক্ত সুযোগের অভাবে যেন কোনো সুসংগঠিত প্রতিভা আড়ালে হারিয়ে না যায়, সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি করবে এই মঞ্চ।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকার তরুণদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিচ্ছে। এই মেগা উদ্যোগটি দেশের আনাচে-কানাচে থাকা সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী করতে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লুকানো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সম্ভাবনা বিকাশে উৎসাহ দিতে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম সর্বজনীন ও বৃহৎ আয়োজন। প্রান্তিক অঞ্চলের অসামান্য শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থ-সামাজিক স্বাবলম্বিতা এনে দিতে এই টিভি শো এক নতুন যুগান্তকারী দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।








