নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তির খবর এসেছে। দেশের বাজারে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের চেয়ে বেশ খানিকটা কমানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই দাম ঘোষণার পর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের বাজেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কত টাকা কমলো এলপি গ্যাসের দাম?
বিইআরসি-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হবে ১,৮৮৫ টাকা। এর আগে এই ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৯৪০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি সিলিন্ডারে এক একবারে ৫৫ টাকা কমানো হয়েছে।
আজ থেকেই নতুন এই নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই নতুন দাম অনুযায়ী গ্যাস বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অটোগ্যাসের দামেও এসেছে ছাড়
শুধু রান্নার গ্যাসই নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। বিইআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম পড়বে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা। এর আগে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের জন্য গ্রাহকদের গুনতে হতো ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা। গাড়ির জ্বালানি খরচ কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
আগের দুই দফায় বেড়েছিল রেকর্ড পরিমাণ দাম
গত কয়েক মাসে এলপি গ্যাসের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। বিইআরসি-এর আগের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত মাত্র দুই দফায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
আসুন দেখে নেওয়া যাক গত কয়েক সপ্তাহের দাম বৃদ্ধির চিত্র:
- ১৯ এপ্রিলের আপডেট: গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা করা হয়েছিল।
- ২ এপ্রিলের আপডেট: তার ঠিক ১৭ দিন আগে অর্থাৎ ২ এপ্রিল এক ধাক্কায় ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা।
টানা দুইবার দাম বাড়ার পর এবার দাম কিছুটা কমায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ ক্রেতারা।
নতুন দাম কার্যকর নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনা
বিইআরসি সরকারিভাবে দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও খুচরা বাজারে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা নিয়ে বরাবরের মতোই সংশয়ে আছেন সাধারণ ভোক্তারা। অনেক সময় দেখা যায়, সরকার দাম কমালেও ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা আগের বেশি দামেই গ্যাস বিক্রি করতে চান।
বাজার মনিটরিং করার দাবি
ভোক্তাদের দাবি, বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা যেন স্থানীয় বাজারে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম নিতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং বা অভিযান চালানো উচিত। তবেই সরকারের এই দাম কমানোর আসল সুবিধা সাধারণ মানুষ পাবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এবারের এই দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দাম আরও কমবে বলে আশা রাখছে।








