আসন্ন ঈদের ছুটি ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে এখনই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। প্রতিবছর ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে ছুটির তালিকাটি আমরা একটু গুরুত্ব দিয়েই দেখি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একদম ভিন্ন। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশাল সারপ্রাইজ। সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এবার ঈদের ছুটি হতে পারে টানা ১০ থেকে ১২ দিনের!
২০২৬ সালের ঈদের ছুটির ক্যালেন্ডার কী বলছে
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ২০২৬ সালের ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে মোট ৫ দিন। অর্থাৎ, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত থাকবে ঈদের সাধারণ সরকারি ছুটি।
তবে এই ৫ দিনের ছুটির আগে-পরে এমন কিছু দিবস পড়েছে, যা একটু সমন্বয় করলেই ছুটির দৈর্ঘ্য অনেক বাড়ানো সম্ভব। চলুন দেখে নিই সেই জাদুকরী হিসাবটি।
মাত্র ১ দিনের ছুটিতে ৭ দিনের আনন্দ
ঈদের মূল ছুটি শুরু হওয়ার আগে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) রয়েছে শবে কদরের ছুটি। এই ছুটির পর ১৮ মার্চ (বুধবার) অফিস খোলা। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ১৮ মার্চ ১ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি ম্যানেজ করতে পারেন, তবে তিনি আগের শবে কদরের ছুটি এবং পরের ঈদের ৫ দিনের ছুটি মিলিয়ে টানা ৭ দিনের একটি বড় ছুটি পেয়ে যাবেন।
যেভাবে ছুটি লম্বা হয়ে ১০ দিনে ঠেকবে
ঈদের অফিসিয়াল ছুটি শেষ হচ্ছে ২৩ মার্চ (সোমবার)। এর ঠিক দুই দিন পরেই অর্থাৎ ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা দিবস। ২৬ মার্চ এমনিতেই সরকারি ছুটি। এরপরের দুই দিন ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।
এখন আসল রহস্য হলো ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার)। যদি কেউ এই দুই দিন বাড়তি ছুটি নিতে পারেন, তবে তিনি ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত একটানা ১০ দিন বিশ্রামের সুযোগ পাবেন।
অবিশ্বাস্য ১২ দিনের ছুটি কি সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব! যদি ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি থেকে হিসাব শুরু করেন এবং মাঝখানের ১৮ মার্চ ও ঈদের পরের ২৪ ও ২৫ মার্চ—এই মোট ৩ দিন ছুটি নিতে পারেন, তবে আপনার মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়াবে টানা ১২ দিন। অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত আপনাকে আর অফিসে যেতে হবে না।
একনজরে ছুটির তালিকাটি দেখে নিন:
| তারিখ | বার | ছুটির কারণ |
| ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | শবে কদর |
| ১৮ মার্চ | বুধবার | ঐচ্ছিক/নৈমিত্তিক ছুটি (ম্যানেজ করতে হবে) |
| ১৯-২৩ মার্চ | বৃহস্পতি-সোম | পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি |
| ২৪-২৫ মার্চ | মঙ্গল-বুধ | ঐচ্ছিক/নৈমিত্তিক ছুটি (ম্যানেজ করতে হবে) |
| ২৬ মার্চ | বৃহস্পতিবার | মহান স্বাধীনতা দিবস |
| ২৭-২৮ মার্চ | শুক্র-শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
পর্যটন খাতে পড়বে ইতিবাচক প্রভাব
এই দীর্ঘ ছুটির খবর পর্যটন প্রেমীদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে মানুষ পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। টানা ১২ দিনের সুযোগ থাকলে অনেকেই এবার সাজেক, কক্সবাজার বা সিলেটের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড বা নেপালের মতো দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
চাকরিজীবীদের মাঝে উচ্ছ্বাস
টানা এত লম্বা ছুটির সুযোগ সচরাচর পাওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ছুটির ক্যালেন্ডার নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনই তাদের ছুটির আবেদন গুছিয়ে রাখছেন যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো জটিলতা না হয়। তবে মনে রাখবেন, একসাথে অনেক মানুষ ছুটি নিলে অফিসের কাজের ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাই আগেভাগেই কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
উৎসবের আনন্দ মানেই প্রিয়জনদের সাথে কাটানো কিছু মুহূর্ত। ২০২৬ সালের এই অসাধারণ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনিও পারেন আপনার পরিবারকে একটি সুন্দর উপহার দিতে। তবে আপনার অফিসের নিয়মকানুন মেনে এবং কাজের ভারসাম্য বজায় রেখেই এই ছুটির পরিকল্পনা করা উচিত।








